নাসির-অমি ৭ দিনের রিমান্ডে

পুলিশ আমাকে ম্যাজিক্যাল সাপোর্ট দিয়েছে : পরীমণি

আপডেট : ১৬ জুন ২০২১, ০২:০৮ এএম

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমণির করা মামলায় গ্রেপ্তার নাসির ইউ মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে মাদক মামলায় সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি এ আদেশ দেন।

এদিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলার বিষয়ে কথা বলতে চিত্রনায়িকা পরীমণি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে যান। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদের কার্যালয়ে মামলাসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দেন। পরীমণির সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী, কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ করিম জিমি।

গতকাল আদালত সূত্র জানায়, মাদক মামলায় নাসিরের আরও তিন সহযোগী লিপি আক্তার, সুমি আক্তার ও নাজমা আমীন বৃষ্টিরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক (ডিবি) উদয় কুমার মণ্ডল এই পাঁচজনের দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে হাজির করেন। গতকাল সকালে ডিবির উপপরিদর্শক মানিক কুমার শিকদার বিমানবন্দর থানায় তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। এর আগে পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গতকাল সাভার থানায় মামলা দায়ের হয়। মামলায় নাসির ইউ মাহমুদ ও অমির নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এরপর দুপুরে উত্তরার ১ নম্বরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে নাসির ইউ মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে গতকাল মামলার বাদী পরীমণিকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে সেই রাতের ঘটনা সম্পর্কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সে সময় পরীমণি জানান, আসামিদের গ্রেপ্তার করায় স্বস্তিতে আছেন। আসামিদের ধরার জন্য তিনি পুলিশকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। পরীমণি বলেন, আমি শেষ হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ ম্যাজিকাল আমাকে সাপোার্ট দিয়েছে। এখন আমি কাজ করতে পারব। এজন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। আসলে আমি বেনজীর (আইজিপি) স্যারের কাছে পৌঁছতে পারার পরই পুলিশ আমার বিষয়টি আন্তরিকভাবে দেখেছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে। আমি চাই এর সুষ্ঠু বিচার হোক। আসলে আমার পাশে আপনারা যেভাবে সাপোর্ট দিয়েছেন সেটা আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আমি এখন কাজ করতে পারব। নতুন করে বাঁচতে পারব।

তাহলে আগের দিন কেন পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পরীমণি বলেন, আমি শুধু বনানী থানার পুলিশের বিরুদ্ধে বলেছিলাম। যখন রাতে আমাকে জোরপূর্বক মদ খাইয়েছিল, মদে আরও কিছু ছিল কিনা জানি না। তবে খাওয়ানোর পরই আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। ভোররাতে বনানী থানায় আসার পর দেখি ওসি নেই। পরে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর আমি শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের কাছে বলি বিষয়টি আইজি বেনজীর স্যারের কানে দেওয়ার জন্য। উনি জানার পরই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরীমণিকে পাশে নিয়ে ব্রিফিং প্রদানকালে যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, ঢাকা বোট ক্লাবে ঘটনার পর পরীমণি পুলিশ ও আইজিপি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন ঠিকই কিন্তু প্রযোজক সমিতি ও শিল্পী সমিতি সেই সুযোগটা করে দেয়নি। এটিই পরীমণির অভিযোগ ছিল। পরীমণি পুলিশকে ধন্যবাদ দিতে ডিবি কার্যালয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেন, মামলা রেকর্ড হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরীমণির ফেইসবুকে আবারও স্ট্যাটাস : জানা গেছে, ডিবি কার্যালয়ে বিকেলে পৌঁছার আগে পরীমণি আবারও একটি স্ট্যাটাস দেন নিজের ফেইসবুক পেজে। এতে প্রভাবশালী আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক, সহকর্মী এবং ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে সবাইকে ধন্যবাদও দেন তিনি। পোস্টে অভিযুক্তদের দৃষ্টাস্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি। পরীমণি লেখেন আমার বিশ্বাস আমার আস্থা ভুল ছিল না। আইন সবার ওপরে। শুধু সেই সঠিক জায়গায় পৌঁছানোটাই যত কষ্ট! আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সকল সাংবাদিক, সকল সহকর্মী এবং দেশের মানুষ যারা এই দুঃসময়ে আমার পাশে ছিলেন, আছেন, আমি সবার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ। আপনারাই আমার সাহস। আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন আমার চাওয়া আসামিরা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। কোনোভাবেই যেন এই ধরনের লোকেরা আর কোনো মেয়েকে এভাবে নির্যাতন, অপমান করার সাহস না পায়। আমি হার মানব না। আমি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখে তিনি লেখেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি এই দেশের আশীর্বাদ। আপনি মা। আপনি মমতার আঁচলে জড়িয়ে রাখেন আপনার সকল সন্তানকে।

এদিকে ঘটনাস্থল ঢাকা বোট ক্লাবে গিয়ে গতকাল একাধিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সেই রাতের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ ও অভিযান চালিয়েছেন। ক্লাবটিতে বৈধতার আড়ালে কী পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্যের মজুদ রয়েছে সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাবের আহসান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত