নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় অঙ্কের সহায়তা জার্মানির

আপডেট : ২০ জুন ২০২১, ১১:৪৮ পিএম

বৈশ্বিক মহামারী করোনার মধ্যেই নবায়নযোগ জ্বালানিত ও অবকাঠামো খাতে বড় অঙ্কের সহায়তা পাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে জার্মান সরকার নবায়নযোগ জ্বালানি ও অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকা- সম্পাদনে দেবে ৩ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা আর সেতু অবকাঠামো উন্নয়নে মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানিকারকদের জোট ওপেক দেবে ৬৩৭ কোটি টাকা। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ আলাদা আলাদা চুক্তি সই করেছে।

ইআরডি সূত্র জানায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বাংলাদেশের চলমান কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে ৩৩ কোটি ৯৫ লাখ ইউরো দেবে জার্মানি। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা হিসাবে)। প্রতি দুই বছর পরপর বাংলাদেশ ও জার্মান সরকারের মধ্যে কারিগরি ও আর্থিক চুক্তি হয়। করোনাকালীনও বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে এটা সর্বোচ্চ পরিমাণে চুক্তি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে এত পরিমাণে ঋণ ও অনুদান দেয়নি জার্মানি।

গতকাল ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে বাংলাদেশ সরকার ও জার্মান সরকারের মধ্যে এ ঋণ ও অনুদান চুক্তি সই হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও জার্মান সরকারের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহল্টস চুক্তিতে সই করেন। কারিগরি সহায়তা অনুদান হিসেবে ও আর্থিক সহায়তা ঋণ হিসেবে দেবে জার্মানি। নামমাত্র সুদে এই ঋণ ২৫ বছরে পরিশোধযোগ্য। মোট ঋণ চুক্তির মধ্যে ৪৭ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ইউরো অনুদান হিসেবে দেবে জার্মানি। বাকি ২৯২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউরো ঋণ হিসেবে দেবে। এর মধ্যে ‘রিনেবল এনার্জি অ্যান্ড এনার্জি ইফিসিয়েন্সি প্রকল্পে ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউরো ঋণ হিসেবে পাবে বাংলাদেশ। এছাড়া সাসটেনেবল আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ৩০ মিলিয়ন, গুড গভর্নমেন্স প্রকল্পে ৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন, ডিসপ্লেসমেন্ট অ্যান্ড মাইগ্রেশন প্রকল্পে ১৯ মিলিয়ন, ট্রেইনিং অ্যান্ড সাসটেনেবল গ্রোথ ফর ডিসেন্ট জব প্রকল্পে ৪২ দশমিক ৫ মিলিয়ন এবং প্রটেকশন অব বায়োডায়ভার্সিটি প্রকল্পে ৫ মিলিয়ন ইউরো দেবে জার্মান সরকার।

ঋণ-অনুদান চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ-জার্মানির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। এসডিজি অর্জনে আজকের চুক্তি সুদূরপ্রসারী অবদান রাখবে। আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক কাজে সবসময় সঙ্গী হব। প্রতি দুই বছর পরপর বাংলাদেশ-জার্মান সরকারের মধ্যে কারিগরি ও আর্থিক চুক্তি হয়ে থাকে। করোনাকালেও রেকর্ড পরিমাণে চুক্তি হওয়ায় আমরা গর্বিত।

১৯৭২ সাল থেকে জার্মান সরকার বাংলাদেশকে ঋণ ও অনুদান দিয়ে আসছে। বর্তমানে এর পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে। নানা খাতে অনুদান ও ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্য খাত, দারিদ্র্য বিমোচন, সুশাসন এবং মানবাধিকার খাত, জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত ও জলবায়ু পরিবর্তন থেকে রক্ষা করা।

সেতু নির্মাণে ৬৩৭ কোটি টাকা দেবে ওপেক : বরিশালের নলুয়া-বাহেরচরবাসীর জন্য পান্ডব-পায়রা নদীর ওপর নির্মিত হতে যাচ্ছে ১ হাজার ৩০০ মিটার সেতু। এ সেতু নির্মাণে মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানিকারকদের জোট ওপেক ৭ দশমিক ৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। প্রতি ডলার সমান ৮৫ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৩৭ কোটি ৫ লাখ টাকা। নালুয়া-বাহেরচর ব্রিজ প্রকল্পের আওতায় ঋণচুক্তি হয়েছে।

গতকাল ইআরডি ও ওপেকের মধ্যে এ ঋণচুক্তি সই হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও সংস্থাটির মহাপরিচালক আবদুল হামিদ আলখালাফি চুক্তিতে সই করেন। ঋণের সুদহার ১ দশমিক ৫ শতাংশ। পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এর পাশাপাশি ঋণের সার্ভিস চার্জ ১ শতাংশ।

প্রকল্পটি ইতিমধ্যেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভা অনুমোদন দিয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বরিশাল (দিনারেরপুল) লক্ষ্মীপাশা-দুমকি সড়ক (জেড-৮০৪৪)-এর ২৭তম কিলোমিটারে পান্ডব-পায়রা নদীর ওপর নলুয়া-বাহেরচর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ২৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাল ধরা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত