ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০১৯ সালের আগস্টে স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো অঞ্চলটির মূলধারার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় বলে খবর দিয়েছে এনডিটিভি।
নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে প্রায় তিন ঘণ্টার এ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে বের হয়ে কাশ্মীরের রাজনীতিকরা সাংবাদিকদের জানান, রাজ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে রাজ্যসভার সদস্য ও কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (অমিত শাহ) বলেন সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্য মর্যাদা দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার এ বক্তব্যের পর আমাদের সব নেতা পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা দাবি করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠকে আমরা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রাজ্য মর্যাদা ফেরত, কাশ্মীরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন, কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলে নেতাদের অবস্থান, সব রাজবন্দির মুক্তি ও বাসস্থান নিয়ে আগের রীতি ফেরতের দাবি জানিয়েছি।’
নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এ বৈঠকে যোগ দেন জম্মু ও কাশ্মীরের আটটি রাজনৈতিক দলের ১৪ নেতা। এদের মধ্যে চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন।
কাশ্মীরে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যের এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও বিজেপি প্রধান জেপি নদা উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
অন্যদিকে পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি মেহবুবা মুফতি, জাতীয় কংগ্রেসের প্রধান ফারুক আব্দুল্লাহ, তার ছেলে উমর আব্দুল্লাহ, কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ, জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল প্যানথার্স পার্টির ভীম সিংহ প্রমুখ বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠক শেষে পিপলস কনফারেন্সের নেতা মুজাফফর হুসাইন বেগ বলেন, ‘সব নেতা জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্য মর্যাদা ফেরতের দাবি জানান।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটের প্রস্তুতি হিসেবে সংসদীয় সীমানা পুনর্নির্ধারণের পরই এ বিষয়ে তিনি আলোচনা করবেন বলে জানান।’ বৈঠককে ফলপ্রসূ দাবি করেন মুজাফফর বেগ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের শান্তি পুনরুদ্ধারে সম্পূর্ণ ঐকমত্য পোষণ করেছে।’
বৈঠকে উমর আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে বলেন, তার দল ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত সমর্থন করেনি। আমরা কখনো এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রস্তুত ছিলাম না। তবে আমরা আইনও হাতে তুলে নেইনি। আদালতে লড়াই করছি। এখন মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারেরই ওপরই বর্তায়।
এনডিটিভি বলছে, বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি কাশ্মীরের সংসদীয় আসন পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা চেয়েছেন। ২০১৯ সালে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে এসব আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করতে চায় সরকার।
