বিজিএমইএর আপত্তি

লকডাউনে বেসরকারি ডিপো থেকে পণ্য ডেলিভারি চায় চবক

আপডেট : ২৯ জুন ২০২১, ১০:৪৯ পিএম

বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত রাখতে কাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া কঠোর লকডাউনে সব আমদানি পণ্য বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো থেকে ডেলিভারি দিতে চায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বরাবর চিঠিও দিয়েছেন বন্দর চেয়ারম্যান। বন্দরের এমন মনোভাবে আপত্তি জানিয়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তাদের মতে, করোনার এই কঠিন সময়ে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প এমনিতেই সংকটে রয়েছে। তার ওপর বেসরকারি আইসিডি থেকে পণ্য ডেলিভারি নিতে হলে অতিরিক্ত চার্জ ও সময় ব্যয়ের কারণে এ খাতটি আরও বিপর্যয়ে পড়বে।

বন্দর ব্যবহারকারীদের একাধিক সূত্র জানায়, সামনের লকডাউনে কার্যক্রম সচল রাখতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বন্দর, কাস্টমস, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান লকডাউনকালে সব রকম আমদানি পণ্য বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো থেকে ডেলিভারি দেওয়ার পক্ষে অভিমত দেন। বলেন, ইতিমধ্যে এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এ বক্তব্যে আপত্তি জানিয়ে বলেন, বিশ^ব্যাপী করোনা ভাইরাসজনিত সংকটময় পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক শিল্পে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কারখানা। ক্রেতারা অর্ডার বাতিল কিংবা স্থগিত করছেন। এ সময় অতিরিক্ত চার্জ দিয়ে বেসরকারি আইসিডি থেকে পণ্য খালাস কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি এ-সংক্রান্ত চিঠি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।

চবক সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বছর করোনা ও লকডাউন পরিস্থিতিতে কন্টেইনার ডেলিভারির গতি শ্লথ হওয়ায় বন্দরে ভয়াবহ কন্টেইনার জট সৃষ্টি হয়, যা থেকে উত্তরণে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও দফায় দফায় বৈঠক করতে হয়েছে। ওই সময় সব কন্টেইনার সরাসরি বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে নিয়ে সেখান থেকে খালাসের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করা হয়েছিল। তাই ১ জুলাই থেকে ঘোষিত লকডাউনে যাতে অতীতের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তারই আগাম সতর্কতা হিসেবে এনবিআরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত ওই চিঠির কোনো জবাব আসেনি।

এদিকে বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাকালে এ পর্যন্ত তৈরি পোশাক শিল্পের ৩ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি আদেশ বাতিল কিংবা স্থগিত হয়েছে, এখনো হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পোশাকশিল্প মালিকরা শিল্পের ভবিষ্যৎ, শ্রমিকদের মজুরি প্রদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, প্রাইভেট আইসিডিগুলোয় পর্যাপ্ত স্থান, ইক্যুইপমেন্ট ও শ্রমিক স্বল্পতার কারণে মালামাল খালাসে দীর্ঘসূত্রতাসহ অতিরিক্ত সময় ক্ষেপণের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দুই দিনের মধ্যে কন্টেইনার খালাস করা যায়। বেসরকারি আইসিডিতে সময় লাগে ৬-৭ দিন। এছাড়া  বেসরকারি আইসিডিতে বিভিন্ন চার্জ অনেক বেশি। তাই আমরা বন্দর চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছি। একই সঙ্গে তাকে অনুরোধ করেছি চিঠিটি প্রত্যাহার করতে। বিজিএমইএর এই নেতা জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এনবিআরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত