রূপগঞ্জে কারখানায় অগ্নিকান্ড

মেয়ের লাশ খুঁজে ক্লান্ত ষাটোর্ধ্ব বাবা

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২১, ০২:৫৬ এএম

বয়সের ভারে নুয়ে গেছে শরীর। স্বাভাবিক চলাচল করাও হয়ে পড়েছে কষ্টসাধ্য। যে সময়ে সন্তানের সেবা-যত্ন পাওয়ার কথা, সে সময় কি না সন্তানের লাশ খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত ষাটোর্ধ্ব এক বাবা। মরদেহ খুঁজে পেতে কারখানা, হাসপাতাল ও মর্গে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। একটাই দাবি, প্রিয় সন্তানের লাশটি যাতে দেওয়া হয় তাকে; বাড়িতে নিয়ে যেন দাফন করতে পারেন তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে গতকাল শনিবার দুপুরে মেয়ে রাবেয়ার (১৮) লাশ খুঁজতে আসেন কিশোরগঞ্জের চান্দু মিয়া। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গৌরীপুর গ্রামে। চান্দু মিয়া গৃহস্থালির কাজ করেন। দুই মেয়ের মধ্যে রাবেয়া ছোট। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস ফ্যাক্টারিতে চাকরি করত সে। 

চান্দু মিয়া বলেন, ‘গত দুই মাস আগেই সে চাকরিতে যোগ দেয়। তার বড় বোন কল্পনাও একই এলাকায় আরেকটি কারখানায় চাকরি করে। বড় বোনই রাবেয়াকে চাকরি নিয়ে দেয় কারখানাটিতে। দুই মেয়ে এক সঙ্গেই থাকত।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি মাইয়া পাইছি না, হোনো না পাইয়া এনো আইছি, আমি মাইয়ারে খুঁইজ্জা পাই নাই, মাইয়ার লাশটা জানি খুঁইজা পাই। মাইয়ার লাশ নিয়া জানি আমি দাফন করার পারি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বড় মেয়ে আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, রাবেয়ার কারখানায় আগুন লেগেছে। রাবেয়ার কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না। এই খবর শুনে গত শুক্রবার কিশোরগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ আসি। লকডাউনের কারণে রাস্তায় কোনো গাড়িও ছিল না। ভেঙে ভেঙে খুব কষ্ট করে আসতে হয়েছে। কারখানা, হাসপাতাল সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। মেয়ের কোনো খবর পাইনি। শুক্রবার রাতে বড় মেয়ের কাছে ছিলাম। উদ্ধার হওয়া সব লাশ ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে শুনে গতকাল সকাল ১০টার দিকে মর্গে আসি। তবে এখানেও কোনো লাশ দেখতে পাইনি। মেয়ের লাশ শনাক্তের জন্য রক্তের নমুনা দিয়েছি।’

চান্দু মিয়া জানান, ২ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল রাবেয়ার। কিন্তু সেই সংসার টেকেনি। স্বামী আরেকটি বিয়ে করে চলে যায়। এরপর থেকে অভাগা রাবেয়া বাবার বাসায়ই ছিল। বেকার বসে থাকে দেখে বড় বোনই তাকে ২ মাস আগে রূপগঞ্জের ওই কারখানাটিতে মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেয়। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ডিউটিতে গিয়েছিল রাবেয়া। কারখানাটির ৪র্থ তলাতে কাজ করত সে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত