কাপ্তাই হ্রদে পাহাড়ি ঢল, বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ছে

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ০২:২৭ এএম

বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলের পানি রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে নামতে শুরু করেছে। এতে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বেড়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ে হ্রদে পানির পরিমাণ থাকার কথা ৮৭ দশমিক ৮৪ ফিট এমএসএল। সেখানে বর্তমানে পানি আছে ৮৪ দশমিক ৫৩ ফিট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। এ ঘটনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪টি ইউনিটে বর্তমানে ১২২-১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উপাদন হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহেও দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো ১০০ মেগাওয়াটের নিচে।

জানা যায়, রাঙ্গামাটিতে এ বছর বর্ষায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলেও গত কিছুদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। বৃষ্টির পানি পাহাড়ি ঝিরি ও ছড়া বেয়ে এখন কাপ্তাই হ্রদে নামতে শুরু করায় পানির স্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাপ্তাই হ্রদ থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাওয়ার হাউজ দিয়ে ২২-২৫ হাজার ফিট কিউসেক পার সেকেন্ড পানি নির্গত হচ্ছে। হ্রদটির পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফিট এমএসএল। পানি পর্যাপ্ততার ওপর বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন নির্ভর করে। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমতে থাকে এবং বর্ষায় ৫টি ইউনিটে ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে ২ নম্বর ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। অবশিষ্ট ৪টি ইউনিট সচল আছে। এরমধ্যে ১ নম্বর ইউনিটে ২৯-৩৫ মেগাওয়াট, ৩ নম্বর ইউনিটে ৩০-৩৫ মেগাওয়াট, ৪ নম্বর ইউনিটে ৩০ মেগাওয়াট এবং ৫ নম্বর ইউনিটে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১২২-১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এ টি এম আবদুজ্জাহের জানান, হ্রদে এই সময়ে যা পানি থাকার কথা তার চেয়ে ৩ ফিট এমএসএলের মতো কম আছে। তবে গত কয়েকদিনে হ্রদের পানি বাড়তে শুরু করায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ২ নম্বর ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটি সারানোর কাজ চলছে, সেটা সচল হলে ও পানি স্বাভাবিক নিয়মে বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত