আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত বিতর্কিত ব্যবসায়ী নেতা হেলেনা জাহাঙ্গীরকে রিমান্ডে নিয়ে তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত গতকাল শুক্রবার রাতে এ আদেশ দেয়। এর আগে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আদালতে হাজির করে গুলশান থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন করে পুলিশ। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা ছাড়াও র্যাবের অভিযানে হেলেনার বাসা থেকে মাদক, বন্যপ্রাণীর চামড়া ও ওয়াকিটকি উদ্ধারের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বেশকিছু আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশানের বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। প্রায় সোয়া চার ঘণ্টার অভিযানে ওই বাসা থেকে বিদেশি মদ, বিদেশি মুদ্রা, হরিণ ও ক্যাঙারুর চামড়া, ক্যাসিনোর সরঞ্জাম ও ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে আটক করে র্যাব সদর দপ্তরে নেওয়া হয়। এরপর রাত ২টার দিকে র্যাবের একটি দল মিরপুরে হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন জয়যাত্রা টেলিভিশন ও জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন ভবনে অভিযান চালায়। রাতভর ওই অভিযান চলে। তবে কোনো ধরনের ওয়ারেন্ট ছাড়া হঠাৎ বাসায় অভিযান নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হেলেনা জাহাঙ্গীরের মেয়ে জেসিয়া আলম।
এদিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও ব্যক্তিদের সম্মানহানি করার অপচেষ্টার অভিযোগে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পেরেছে, অস্ট্রিয়াপ্রবাসী আলোচিত-সমালোচিত বাংলাদেশি সেফুদার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও লেনদেন রাখতেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। সেফুদা তাকে নাতনি হিসেবে সম্বোধন করতেন। গতকাল বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।
আইপি টিভির আড়ালে চাঁদাবাজি : রাতারাতি একটি সংগঠন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠার খেসারত দিতে হচ্ছে আলোচিত-সমালোচিত হেলেনা জাহাঙ্গীরকে। র্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তিনি। তার ব্যবসার ধরন সম্পর্কে তথ্য দিয়ে বলেছেন, আইপি টিভির আড়ালেই বিভিন্নজনকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদাবাজি করা হতো। এজন্য একাধিক গ্রুপ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় আছে। পাশাপাশি সংগঠনের আড়ালেও চলত নানারকমের অপরাধ। তার সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক প্রভাবশালীর নামও প্রকাশ করেছেন। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ ও র্যাব। তার সহযোগীরা আছেন আতঙ্কে। তাদের ধরতে ইতিমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে বলে র্যাব ও পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছে।
বিএনপি থেকে মেয়রপ্রার্থী হওয়ার চেষ্টা : সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, ২০১৪ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করার চেষ্টা চালান হেলেনা। ওই দলে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হননি। ওই সময় বিএনপি নেতা এক ব্যবসায়ী পরিবারের সঙ্গে তার গভীর সখ্য ছিল। ওই নেতার মাধ্যমে বিএনপি থেকে মনোনয়ন নেওয়ার চেষ্টা চালান। তখন একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে খালেদার জিয়ার সঙ্গে ছবিও তোলেন। ওই ছবি নিয়ে মহিলা লীগের একজন নেত্রী প্রশ্ন তুললে হেলেনা নিজের ফেইসবুকে পোস্ট করে লেখেন ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে কি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি নেই? তাতে কি কিছু বোঝা যায়? আমরা কি অশিক্ষিত যারা এই ভুলগুলো করছি।’
এক সংগঠনেই সব শেষ : র্যাব কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি সংগঠনের পোস্টার ভাইরাল হলে আলোচনায় উঠে আসেন হেলেনা। পোস্টারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলেনা জাহাঙ্গীর আর সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মনিরের নাম উল্লেখ করা হয়। তিনি আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তার সাম্প্রতিক কর্মকা- সংগঠনের নীতিবহির্ভূত হওয়ায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্যপদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক পদে আছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। তিনি নিজেকে আইপি টিভি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবেও পরিচয় দেন। ‘চাকরিজীবী লীগ’ নামের সংগঠনে সদস্যপদ দেওয়ার কথা বলে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে হেলেনা টাকাও নেন। বহুল আলেচিত এ নারীর প্রিন্টিং, অ্যামব্রয়ডারি, প্যাকেজিং, স্টিকার এবং ওভেন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। জয়যাত্রা গ্রুপের আওতায় এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও তিনি। জয়যাত্রা নামে একটি আইপি টেলিভিশনেরও মালিক তিনি। যদিও জয়যাত্রা টিভি কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চলত। এ টিভির মাধ্যমেই তিনি করতেন চাঁদাবাজি। বিভিন্ন লোকজনকে ব্ল্যাকমেইল করে আদায় করা হতো নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ। এজন্য ঢাকাসহ সারা দেশে তার একাধিক গ্রুপ সক্রিয় ছিল।
জিজ্ঞাসাবাবাদে নানান তথ্য : র্যাবের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর খুবই ধূর্ত। জিজ্ঞাসাবাদে কৌশলে উত্তর দিচ্ছেন। তার চাঁদাবাজির নেটওয়ার্কের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। অনেক রাঘববোয়ালের নামও বলেছেন। তবে তার দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হেলেনা বারবার বলছেন, চাকরিজীবী লীগই কাল হয়েছে। তার মতো অসংখ্য হেলেনার ওপর নজরদারি চলছে। তিনি রাজনীতির নামে বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন। একসময় তিনি বিএনপির একটি অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তখন একটি অপ্রীতিকর ঘটনায় বিব্রতকর অবস্থা এড়াতে তিনি বিদেশ চলে যান। নতুন কৌশলে প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলার মিশন ছিল তার। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং জাতীয় পার্টির প্রয়াত এইচএম এরশাদের সঙ্গে তোলা ছবিও দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ বিষয়ে সম্প্রতি ফেইসবুক লাইভে এসে হেলেনা বলেছিলেন, ‘আমি যে কারও সঙ্গেই ছবি তুলতে পারি। এর মানে এই নয় যে, আমি বিএনপি বা জাতীয় পার্টির রাজনীতি করি। আমি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনীতি করি।’
আলোচিত সেফুদার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন : র্যাব কর্মকর্তারা বলেন, আলোচিত সেফুদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসীর নজর কাড়তে চেষ্টা করেন। তার সঙ্গে হেলেনার নিয়মিত যোগাযোগ ও লেনদেন রয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। সেফুদা হেলেনাকে নাতি হিসেবে সম্বোধন করে থাকেন। অপকৌশলের মাধ্যমে নিজেকে ‘মাদার তেরেসা’, ‘পল্লী মাতা’, ‘প্রবাসী মাতা’ হিসেবে পরিচিতি পেতে ‘জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন’কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘবদ্ধ চক্র ভুয়া ‘খেতাবের’ অপপ্রচার চালাত। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থা ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে ‘জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন’র নামে অর্থ সংগ্রহ করতেন। হেলেনার ১২টি ক্লাবের সদস্যপদ রয়েছে।
আইপি টিভিতে অভিযান : গত বৃহস্পতিবার রাতে আটকের পর রাত ২টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত হেলেনার আইপি টিভি জয়যাত্রা টেলিভিশনের অফিসে অভিযান চালায় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে টেলিভিশন চ্যানেলটির কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। র্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহ বলেন, মিরপুর জয়যাত্রা টেলিভিশনের কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। সম্প্রচার চ্যানেল হিসেবে যেসব সেটআপ থাকা দরকার তার সবকিছুই রয়েছে। জয়যাত্রা টেলিভিশনের জন্য সারা দেশে প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিলেন। এমনকি দেশের বাইরেও প্রতিনিধি নিয়োগের নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হেলেনার মেয়ের অভিযোগ : হেলেনার বাসা থেকে মাদকসহ যেসব মালামাল জব্দ করা হয়েছে সে বিষয়ে তার মেয়ে জেসিয়া আলম বক্তব্য দিয়েছেন। রাতে গুলশানের বাসায় অভিযান শেষে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত বলেন তিনি। মদের বিষয়ে জানতে চাইলে জেসিয়া বলেন, ‘আমার ভাইয়া মদপান করে। সেগুলোই বাসায় ছিল। তবে ভাইয়ার মদপানের লাইসেন্স রয়েছে। পাসপোর্টও আছে। র্যাব সেই লাইসেন্সটাও নিয়ে গেছে।’
হরিণের চামড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জেসি বলেন, ‘ভাইয়ার বিয়ের সময় মায়ের সঙ্গে রাজনীতি করা নেতা-নেত্রীরা মিলে ওইটা গিফট করেছে। সেটি ওয়ালে ঝোলানো ছিল। এটা কি থাকতে পারে না? সৌন্দর্য হিসেবে রাখা হয়েছিল।’
ক্যাসিনোর সরঞ্জামের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাসিনোর চিপস ওগুলো। আমরা নিজেরাই খেলতাম আর সময় কাটাতাম। তবে ক্যাসিনো খেলতে যে বোট আর সরঞ্জাম লাগে তা নেই আমাদের। ধরেন বাসায় তাস খেলে না কেউ? সেরকম একটা বিষয়। জাস্ট ক্যাসিনোর চিপগুলো ছিল বাসায়। মানুষ গেম খেলতে পারে না। ওরকম। এটা কি অন্যায় কিছু।’
বিদেশি মুদ্রার বিষয়ে জানতে চাইলে জেসিয়া বলেন, ‘আমরা র্যান্ডমলি বিদেশে যাই। একাধিক দেশে আমাদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। বিদেশ থেকে আসার পর যে মুদ্রাগুলো বেচে যায় সেগুলো তো রাস্তায় ফেলে দিতে পারি না। ওইসব মুদ্রা থেকে গেছে। এটা কি ইলিগ্যাল?
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাসায় ইলিগ্যাল মালামাল রয়েছে মানলাম। তাই বলে ওরকমভাবে অভিযান করা যায়। কোনো ওয়ারেন্ট নেই, সার্চ ওয়ারেন্ট নেই, হুট করে ঢুকে গেল আর অভিযান চালাল। কোনো কো-অপারেট নেই।’
এ প্রসঙ্গে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘যে মদ পাওয়া গেছে, তিনি দাবি করেছেন তার লাইসেন্স আছে। আমরা কি জানি কতটুকু মাদকের লাইসেন্স তার রয়েছে। আমরা সেটা যাচাই করব।’
বিদেশি মুদ্রার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন কোনো অভিযান পরিচালনা করি তখন পারিপার্শি¦ক প্রমাণ হিসেবে যা পাই তা জব্দ তালিকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করি। পরে ওনারা যদি প্রমাণ করতে পারেন কোনো কিছু নিয়মের মধ্যে আছে তাহলে থানায় আবেদন করে নিয়ে যেতে পারবে।’
র্যাবের সংবাদ সম্মেলন : র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গতকালের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘হেলেনা জাহাঙ্গীরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের মানহানি ও সুনাম নষ্ট করেছেন। এছাড়া তিনি মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন। তিনি খ্যাতি লাভের আশায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ব্যক্তিবর্গদের বিব্রত করতেন। অনৈতিক পন্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে খ্যাতনামা হিসেবে উপস্থাপন করতে চতুরতার আশ্রয় নিতেন। তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করেছেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে “ফেইসবুক লাইভ”-এ এসে অযাচিত ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিতেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন সম্মানিত ব্যক্তিদের কটাক্ষ ও উত্ত্যক্ত করতেন। পরে ফোন করে তাদের হেয় করতেন। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তার অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেন।’
এই র্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘হেলেনা জাহাঙ্গীরের অনুমোদনবিহীন জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশন সিলগালা করে এবং অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়। তিনি ওই টেলিভিশনের কর্মী/সাংবাদিক নিয়োগের নামে চাঁদাবাজি ও প্রতারণা করতেন। এ ধরনের একটি চাঁদাবাজিসংক্রান্ত ফোনালাপ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযানে চাঁদাবাজিসংক্রান্ত নথিপত্রও জব্দ করা হয়েছে।’
