খেলার সময় চেঁচামেচিতে ঘুম ভেঙে যাওয়ায় ১০ শিশু শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে এক মাদ্রাসার শিক্ষক। গত শনিবার দুপুরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের কে এ খান হাফেজি মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।
জানা গেছে, করোনাকালে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কে এ খান হাফেজি মাদ্রাসা চালু রেখে পড়াশোনা চালিয়ে আসছিলেন মাদ্রাসাটির একমাত্র শিক্ষক মোহাম্মদ উল্লাহ। গত শনিবার বেলা ৩টার দিকে মাদ্রাসার ভেতরে শিক্ষার্থীরা খেলা করছিল। একই সময় দুপুরের খাবার খেয়ে মাদ্রাসার ভেতরেই ঘুময়ে ছিলেন শিক্ষক মোহাম্মদ উল্লাহ। খেলার সময় শিক্ষার্থীদের চেঁচামেচিতে মোহাম্মদ উল্লাহর ঘুম ভেঙে যায়। এরপর তিনি ক্ষেপে গিয়ে কক্ষের দরজা বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের বেদম বেত্রাঘাত করেন। এতে আমিনুল ইসলাম (১০), মোহাম্মদ সিয়াম (৯), মো. আমিনুল (৯) ও মো. ইয়াছিনসহ (১৪) ১০ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। কক্ষের মধ্যে আহত শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন ওই শিক্ষক। পরে মাগরিবের নামাজের সময় সিয়াম নামে এক শিক্ষার্থী কৌশলে পালিয়ে গিয়ে এলাকাবাসীকে বিষয়টি জানায়।
পরে স্থানীয়রা মাদ্রাসা ঘেরাও করে শিক্ষক মোহাম্মদ উল্লাহকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে শিশু সিয়ামকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ১১টার দিকে মোহাম্মদ উল্লাহকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগে শিশু আইনে এক শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে গতকাল সকালে থানায় একটি মামলা করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে প্রেরণের কার্য়ক্রম চলছে।
