প্রথম দিন ২৬০০ কোটি টাকা তুলে নিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২১, ১২:২৬ এএম

‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিল’ নিলামের মাধ্যমে প্রথম দিন বাজারের অতিরিক্ত তারল্য থেকে ২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে গতকাল সোমবার থেকে এই নিলামের আয়োজন শুরু করে ব্যাংক খাতের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। 

এই দিন ১ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ৭ দিন মেয়াদি বাংলাদেশ বিল ও ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার ১৪ দিন মেয়াদের বাংলাদেশ ব্যাংক বিল নিলামে কিনে নেয় ব্যাংকগুলো। ৭ দিন মেয়াদি বিলের সুদহার ছিল শূন্য দশমিক ৫৪ এবং ১৪ দিন মেয়াদের বিলের সুদহার ছিল শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ।

নিলামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বাংলাদেশে নিবাসী সব ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বিড দাখিল করতে পারলেও ব্যাংকগুলোই এ নিলামে অংশ নেয় বেশি। আগামী বুধবার ৩০ দিন মেয়াদি বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

এ নিলামেও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বাংলাদেশে নিবাসী সব ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বিড দাখিল করতে পারবেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চলতি হিসাব পরিচালনাকারী যেকোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বা তাদের ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী গ্রাহকদের পক্ষে বিড দাখিল করতে পারবেন।

প্রতি ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের (ফেস ভ্যালু) জন্য ডিসকাউন্টে বিলের প্রস্তাবিত ক্রয়মূল্য (অফার প্রাইজ) উল্লেখসহ মোট অভিহিত মূল্য উদ্ধৃত করে ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় নিলামের দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থাপিত এমআই মডিউলের মাধ্যমে বিড দাখিল করতে হবে। একই দিনে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে এবং নিলাম ফলাফল দুপুর ২টার মধ্যে ঘোষিত হবে। নিলামে অংশগ্রহণের বিশদ পদ্ধতিগত নির্দেশনা ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পত্রযোগে জানানো হয়েছে।  

এরপর ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক বিল নিলামেরও লক্ষ্য রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। ১৬ আগস্ট ৭ ও ১৪ দিন মেয়াদি, ২৩ আগস্ট ৩০ দিন মেয়াদি, ২৫ আগস্ট ৭ ও ১৪ দিন মেয়াদি ও ৩১ আগস্ট ৩০ দিন মেয়াদি বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলামের দিন ধার্য করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা অতিরিক্ত তারল্য আর্থিক খাতে সমস্যা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিল নিলামের মাধ্যমে এই টাকা তুলে নিলে এ সমস্যার লাঘব হবে। এর আগে ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সর্বশেষ ব্যাংকগুলো থেকে এভাবে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছিল।

গত ২৯ জুলাই চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, অতিরিক্ত তারল্য আর্থিক খাতে বুদ্বুদ তৈরি করলে তা তুলে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। অতিরিক্ত তারল্যের কারণে মূল্যস্ফীতি বা সম্পদের দাম বেড়ে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন নীতি গ্রহণ করে; যা তাদের নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার মধ্যে প্রবাসী আয় যেমন বাড়ছে, তেমনি ব্যাংকগুলোতে আমানত বাড়ছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে টাকা উদ্বৃত্ত আছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। বিধিবদ্ধ নগদ তারল্য (সিআরআর) সংরক্ষণের পর গত জুন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অলস পড়ে ছিল ৬২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অলস এ অর্থের বিপরীতে কোনো সুদ পায় না ব্যাংক। বাকি টাকায় কেনা হয়েছে বিভিন্ন বিল ও বন্ড। অনেক ব্যাংক এই অলস টাকা ব্যবহারের উপায় খুঁজছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে এই বিল বিক্রি করে বাজার থেকে অতিরিক্ত টাকা তুলে নেবে এবং এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো মুনাফা পাবে।

গত বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর বাজারে তারল্য বাড়াতে নানা নীতিসহায়তা দিলেও ঋণের চাহিদা বাড়েনি। যে কারণে ব্যাংকে অলস টাকা বাড়ছে। সাধারণভাবে সিআরআর সংরক্ষণের পর ব্যাংকগুলোর ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা অলস থাকে। গত বছরের জুন শেষে তা ২৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা হয়।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যাংকের মোট দায়ের একটি অংশ বিধিবদ্ধ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। এর মধ্যে বর্তমানে নগদে রাখতে হয় সাড়ে ৪ শতাংশ, যা সিআরআর হিসেবে বিবেচিত। করোনা শুরুর আগে গত বছরও সাড়ে ৫ শতাংশ সিআরআর রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে বিভিন্ন বিল ও বন্ডের বিপরীতে বিধিবদ্ধ তারল্য বা এসএলআর রাখতে হচ্ছে আগের মতোই ১৩ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত