সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পলাতক খুনিদের ফেরাতে প্রবাসীদের সহযোগিতা চাই

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২১, ০১:৫৮ এএম

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক তিন খুনিকে ফিরিয়ে আনতে দেশবাসী ও প্রবাসীদের সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘তিনজন কোথায় আমরা জানি না। তবে আমরা বুঝতে পারি, তারা এক দেশ থেকে আরেক দেশে চলাচল করছে, ভিন্ন ভিন্ন পাসপোর্ট দিয়ে। দেশবাসী ও আমাদের প্রবাসী সবাইকে আমরা অনুরোধ করছি, কোনোভাবে যদি আপনারা এই পলাতকদের খোঁজখবর পান, আমাদের জানান। আপনাদের তথ্য সঠিক হলে অবশ্যই আমরা আপনাদের পুরস্কৃত করব।’ গতকাল রবিবার জাতির জনকের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বঙ্গবন্ধু কর্নারে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর পলাতক খুনিদের ফেরানোর বিষয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, কানাডা মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে না বলে আত্মস্বীকৃত খুনি নূর সেখানে রয়েছে। আর ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে’ রেসিডেন্সি পারমিট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা খুনি রাশেদের বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেল ‘যাচাই-বাছাই’ করছেন। আমাদের বিশ্বাস, যখন তারা সত্যটি জানতে পারবে, তখন তার নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে এবং তাকে বাংলাদেশ ফেরত পাঠানো হবে। আমরা আশাবাদী, রাশেদ চৌধুরী দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি দেশবাসীকে বলব এবং প্রবাসীদের বলব, চিহ্নিত যেসব খুনি, তারা যে যেখানেই থাকুক, তাদের বাড়িঘরের সামনে গিয়ে প্রতি মাসে একবার প্রতিবাদ কর্মসূচি করবেন, বলবেন ‘এখানে খুনি থাকে’। তাহলে ওই এলাকার লোকজন জানবে, তার প্রতিবেশী একজন খুনি। আমরা আমাদের প্রত্যেকটি মিশনকে জানিয়েছি। তারাও তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এই পলাতক খুনিদের অবস্থান চিহ্নিত করতে এবং এই খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করতে কঠোর পরিশ্রম করছে। আজকের এই দিনে আমরা অঙ্গীকার করি, এই খুনিদের ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করব।’

খুনিরা অবস্থান পরিবর্তন করলেও তাদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না কেন, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘৪৬ বছর আগে ঘটনাটি ঘটে, নৃশংস হত্যাকাণ্ডটা হয়। আর এরপর যে সমস্ত সরকার ছিল, জিয়া সরকার, এরশাদ সাহেবের সরকার, খালেদা জিয়ার সবগুলো সরকার ওদের মদদ দিয়েছে। ওরা যাতে বিভিন্ন দেশে স্থিতিশীল হতে পারে, তার ব্যবস্থা করেছে। অনেকদিন পরে এটার বিচার হয়েছে। দেশবাসীও যদি তখন প্রতিবাদ করত, তাহলে তাদের সেসব সরকার এত মদদ দিত না। অতীতে যা হওয়ার হয়েছে, আমরা তাদের ফেরত আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যায় দুই দফায় ছয় জনের ফাঁসি কার্যকর হলেও বাকি পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- আব্দুর রশীদ, শরীফুল হক ডালিম, মোসলেম উদ্দিন, রাশেদ চৌধুরী ও এবিএমএইচ নূর চৌধুরী। এর মধ্যে রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে ও নূর চৌধুরী কানাডায় অবস্থান করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত