ঝিনাইদহে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য খালেদা খানমের মেয়ে সোহেলী আহম্মেদ এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাজেদুর রহমান পপ্পুকে পাঁচ দিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের টানে তারা দুজন গত বুধবার সন্ধ্যায় নিজ নিজ সংসার ছেড়ে অজানা জায়গায় পাড়ি জমান বলে ধারণা করছে এলাকাবাসী। ঘর ছাড়া সোহেলীর ১০ বছর বয়সী কন্যাসন্তান এবং পপ্পুরও স্ত্রী-সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। এ দুজনের নিখোঁজের ঘটনায় সোহেলীর স্বামী বিল্লাল হোসেন লিটন তার স্ত্রীকে অপহরণের অভিযোগ এনে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেছেন।
সোহেলীর মা ঝিনাইদহ-মাগুরা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য খালেদা খানম ঝিনাইদহ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
জানা গেছে, নিখোঁজ সোহেলী আহম্মেদ তার মা খালেদা খানমের ঝিনাইদহ শহরের ৩ নম্বর পানির ট্যাংকিপাড়ার বাসায় থাকতেন। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি প্রতিবেশী সাজেদুর রহমান পপ্পুর সঙ্গে তার বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে তাদের কোথাও খুঁজে পায়নি পরিবারের সদস্যরা। এমন পরিস্থিতিতে ওই রাতেই সোহেলীর স্বামী বিল্লাল হোসেন সদর থানায় পপ্পু ও একই এলাকার তৌফিক হোসেনের নাম উল্লেখ করে অপহরণ মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বেশ কয়েক দিন ধরে সোহেলীকে আসামিরা উত্ত্যক্তসহ বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার সন্ধ্যায় পপ্পু ও তৌফিক সোহেলীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিল্লাল হোসেন লিটন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পাঁচ দিন পার হলেও আমার স্ত্রীকে পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। তাকে দ্রুত উদ্ধার ও অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’
এমপিকন্যাকে অপহরণ মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের (সোহেলী ও পপ্পু) অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালানো হবে। তবে এটি অপহরণ, নাকি প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছে সোহেলী তা তাকে উদ্ধারের পর তার জবানবন্দিতে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
মেয়ে নিখোঁজের বিষয়ে জানতে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য খালেদা খানমকে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
