দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন খোলা থাকলেও নেই কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন। সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, মিলনায়তন খোলার বিষয়টি জানিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে শিল্পকলা একাডেমি বলছে, ‘একাডেমির মিলনায়তন বন্ধ হয়েছিল সরকারের দ্বিতীয় ধাপে লকডাউন নির্দেশনার অংশ হিসেবে। ফলে লকডাউন উঠে যাওয়ার পর থেকেই খোলা রয়েছে একাডেমির মিলনায়তন।
একাডেমি সূত্রে জানা যায়, সরকারের লকডাউন সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ৪ এপ্রিল থেকে শিল্পকলার বিভিন্ন মিলনায়তনে অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। গত ১৯ আগস্ট থেকে বিনোদন কেন্দ্র খোলার সরকারি সিদ্ধান্তের সাথে শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনও খোলা হয়। কিন্তু দুই সপ্তাহেও মিলনায়তনের বরাদ্দ পেতে আবেদন করেনি কোনো সংগঠন। বিভিন্ন সময় মিলনায়তন বরাদ্দের জন্য রীতিমতো লবিং করতে দেখা গেলেও দুই সপ্তাহে কোনো আবেদন জমা পড়েনি একাডেমির মিলনায়তন বরাদ্দ কমিটির কাছে।
জানা যায়, বেশির ভাগ সাংস্কৃতিক সংগঠনই অপেক্ষায় রয়েছে একাডেমির মিলনায়তন খোলার ঘোষণার জন্য। কিন্তু একাডেমি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না দেয়ায় অনেকেই জানেন না বিষয়টি। ফলে সংগঠনগুলোও আবেদন করেনি মিলনায়তনের বরাদ্দ পেতে।
গত ৩০ আগস্ট বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ মিলনায়তন খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত রেখে জাতীয় নাট্যশালা বন্ধ কেন? কর্তৃপক্ষ জবাব চাই।’
এর আগে ১২ আগস্ট একাডেমি কর্তৃপক্ষের কাছে মিলনায়তন খুলে দেয়ার আবেদন জানিয়ে চিঠিও দেন কামাল বায়েজীদ। চিঠিতে সম্পূর্ণ ভাড়া মওকুফ করে শিল্পকলা একাডেমির সব মিলনায়তন খুলে দেওয়ার আবেদনও জানান তিনি। এছাড়া আরও কয়েকজন নাট্যকর্মী মিলনায়তন খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট লিখেছেন। কিন্তু মিলনায়তন খোলা থাকার বিষয়টি জানেন না তারাও।
আরও পড়ুন: শিল্পকলার সব মিলনায়তন খুলে দেয়ার আবেদন
শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা বিভাগের সেট ডিজাইনার আলী আহমেদ মুকুল বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপে লকডাউনের সময় সরকার কর্তৃক যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল সেই আলোকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা ও অন্যান্য স্থাপনা বন্ধ ছিল। জাতীয় নাট্যশালা বন্ধের বিষয়ে সেসময়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বিশেষ কোন আদেশ বা বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। সরকার কর্তৃক লকডাউন তুলে নেবার এবং বিনোদন কেন্দ্র খুলে দেবার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সকল স্থাপনা ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। যেহেতু একাডেমি বিশেষ কোন আদেশ বা বিজ্ঞপ্তি জারি করে জাতীয় নাট্যশালা বন্ধ করেনি সেহেতু নতুন করে তা খুলে দেওয়া আলোচ্য বিষয় হতে পারে না। জাতীয় নাট্যশালা ভবনের সকল স্থাপনা লকডাউন পরবর্তী সময় থেকে ব্যবহার উপযোগী এবং তা ব্যবহারের জন্য আবেদনকারী সংগঠনের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদান করা হচ্ছে।’
শিল্পকলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, একাডেমির মিলনায়তন ১৯ আগস্ট থেকেই খোলা রয়েছে। কিন্তু কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলনায়তন বরাদ্দ পেতে আবেদনই করেনি তাদের কাছে। একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন বন্ধ হয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লকডাউন সিদ্ধান্তের কারণে। একাডেমি তো আলাদা কোনো বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মিলনায়তন বন্ধ করেনি। সরকার বিনোদন কেন্দ্র খুলে দেয়ার ঘোষণার পরই মূলত একাডেমির মিলনায়তনও খোলা হয়েছে। কিন্তু দুই সপ্তাহে মিলনায়তনের বরাদ্দ পেতে কোনো সংগঠন আবেদন করেনি।’
জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তন বরাদ্দ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মিলনায়তনের বরাদ্দ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যে কোনো সংগঠন চাইলে নিয়ম মেনে মিলনায়তনের বরাদ্দ পেতে আবেদন করতে পারবে। কিন্তু হল বরাদ্দ কমিটির কাছে আশানুরূপ আবেদন জমা পড়েনি। এ জন্য দুই সপ্তাহে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি নাট্যশালায়। তবে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠান করার জন্য মিলনায়তন বরাদ্দের আবেদন করেছে কয়েকটি সংগঠন। তাদেরকে যাচাই-বাছাই করে যথাযথ নিয়ম মেনে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
