নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে তার অনুসারীদের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম স্বপন।
গত শুক্রবার রাতে বর্ণনা দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। চেতনা ফেরার পর স্বপন গত রাতে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বাসায় তাকে দেখতে যাওয়া সাংবাদিক, দলীয় কর্মী ও স্বজনদের প্রশ্নের উত্তরে নির্যাতনের কিছু বর্ণনা দেন। কিন্তু কান্নার কারণে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিতে পারেননি জাপার এ নেতা। ২ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে স্বপনকে বলতে শোনা যায়, ‘কালামিয়া ম্যানশনের সামনে থেকে মির্জা মিয়া (আবদুল কাদের মির্জা) ও তার ৩০-৪০ জন আমাকে তুলে নিয়ে যান। মির্জা মিয়া গালি দিয়ে বলেন ধরৃ। পুলিশও ছিল এ সময়। সেখান থেকে আমাকে হোন্ডায় (মোটরসাইকেল) তুলে পৌরসভার তৃতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে পাঁচটি ব্যানারে লেখা ছিল বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ। পাঁচ ঘণ্টারে ভাই, ভাই রে ভাই...।’ নিজের মুখমণ্ডল, দুই পা দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এগাইন নাই। আল্লাহ রে...ও আল্লাহ।’ কী কারণে তুলে নেওয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বপন বলেন, ‘কী জন্য নিয়ে গেছে আমি জানি না। ওইখানে নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও করছে। আমার বাবা রাজনীতি করেছেন, আমিও করি। কোনো দিন কারও সঙ্গে ভেজাল হয়নি। আমার থেকে জোর করে কিয়ের কিয়ের লেখালেখিয়ে নিয়ে গেছে, আমি কইতাম হাইরতাম ন। ও আল্লাহ, আল্লাহ রে আমার মাথা নাই।’
স্বপনের স্বজনরা জানান, গত বুধবার তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবদুল লতিফ মেম্বারকে ডেকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হস্তান্তর করা হয়। এরপর প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, পরে আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে নিরাপত্তার অভাবে বাসায় এনে চিকিৎসা দিচ্ছেন। নির্যাতন করে স্বপনের দুই পা ও ডান হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, তার পুরো শরীরের ভেতরের অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়েছে, মাথায়ও গুরুতর জখম রয়েছে।
এদিকে ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতাদের চাপ দিয়ে বসুরহাট পৌরসভা ভবনে সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য করেন বলে আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে লিখিত বক্তব্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবদুল লতিফ বলেন, ‘গত বুধবার রাতে স্বেচ্ছায় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জার সঙ্গে দেখা করতে যান উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক স্বপন। পরে তিনি সুস্থ শরীরে পৌরসভা থেকে বেরিয়ে আসেন।’ জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, ‘গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কাদের মির্জা ও তার অনুসারীরা আবদুল লতিফসহ তিন নেতাকে ডেকে নিয়ে যান। ভয়ে তারা সংবাদ সম্মেলনে ভিন্ন কথা বলেছেন।’
এ বিষয়ে গতকাল আবদুল কাদের মির্জার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী ও তার পরিবার কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
