১০ ঘণ্টা পর মিলল জনসংহতি সমিতির নেতার গুলিবিদ্ধ লাশ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:২৪ এএম

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির বঙ্গলতলীতে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা সুরেশ চন্দ্র চাকমা জীবেশের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকা-ের প্রায় ১০ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি পাহাড়ের ঢাল থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঘাইছড়ি থানার ওসি আনোয়ার হোসেন খান।

গতকাল শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার দুর্গম বঙ্গলতলী ইউনিয়নের ‘বি’ ব্লক এলাকায় এ হত্যাকান্ড হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত সুরেশ সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা। তবে তিনি সংগঠনটিতে কোনো দায়িত্বে ছিলেন কি না, সেই সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেনি তারা। এ হত্যাকান্ড সম্পর্কে কিছুই জানায়নি তার সংগঠন জনসংহতি সমিতি।

স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, সুরেশ চন্দ্র জনসংহতি সমিতির অনেক পুরনো কর্মী এবং সাবেক গেরিলা সংগঠন শান্তি বাহিনীর সদস্য। তিনি বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক নানান দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি উপজেলা কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সংগঠনটির বিচার কমিটির উপজেলা প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। সুরেশ তার নিজের বাড়িতে নয়, বাড়ির কাছেই এক প্রতিবেশীর বাড়িতে রাতযাপনকালেই গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি তাদের। প্রাণনাশের ভয়ে তিনি নিয়মিতই নিজ বাড়ির বাইরে রাতযাপন করতেন বলেও জানিয়েছে সূত্রগুলো।

এদিকে সকালে হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে কোনো লাশেরও হদিস পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা ধারণা করছে, তারা পৌঁছানোর আগেই লাশ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সুরেশের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে বিকেল পর্যন্ত এ বিষয়ে মুখ খোলেনি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। সংগঠনটির দায়িত্বশীল কোনো নেতাই ফোনও ধরেন না। অন্যান্য ঘটনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বিবৃতি পাঠানো হলেও এ হত্যাকা-ের প্রায় ছয় ঘণ্টা পরও কোনো বিবৃতি পাঠায়নি সংগঠনটি।

সংগঠনটির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন-লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক জুপিটার চাকমা বলেছেন, ‘তাদের নিজেদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিবাদে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে জেনেছি। ওই এলাকাটি সম্পূর্ণই জনসংহতির ঘনিষ্ঠ সংগঠন ইউপিডিএফের নিয়ন্ত্রণাধীন। সেখানে আমাদের পক্ষে প্রবেশ করাও কঠিন ও কষ্টসাধ্য। তারা নিজেরাই এ হত্যাকান্ড ঘটিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপাতে চাইছে, কারণ তারা জানে যেহেতু তাদের সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ্ব সেহেতু সবাই বিশ্বাস করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত