শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ইইউতে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার বাধা কাটছে

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ০২:১৬ এএম

দেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২০২৯ সালের পরও জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে বড় বাধা কেটেছে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান। ইউরোপের এ জোটের দেশগুলোতে পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা বিষয়ক ‘২০২৪-২০৩৪ জিএসপি রেগুলেশনের’ অন্যতম একটি শর্তে বাংলাদেশ ছাড় পেয়েছে বলে দাবি জানান তিনি।

গতকাল রাজধানীর গুলশানে ওয়েস্টিন হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান এই তথ্য জানান। কভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতে রপ্তানি চাঙ্গা করতে মাসব্যাপী উত্তর আমেরিকা সফরের বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছে সফরকালে বাংলাদেশি পোশাকের মূল্য বাড়ানোর আহ্বান জানানোর কথাও জানান তিনি।

তিনি জানান, আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের (এএএফএ) সঙ্গে বৈঠকে দাম বৃদ্ধির এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইইউতে জিএসপি প্লাস সুবিধার বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, রেগুলেশনের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ ‘ইম্পোর্ট থ্রেশোল্ড’ থেকে অব্যাহতি দেওয়া বা এর বিকল্প ফর্মুলা প্রবর্তনের অনুরোধে ইইউ সাড়া দেওয়ায় আর বড় কোনো বাধা নেই। বর্তমান সুবিধা ২০২৯ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ফলে আমরা যখনই ইবিএ সুবিধা হারাই না  কেন, জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে আর বড় কোনো বাধা থাকল না। এরপরও যেন আরও অন্তত ১২ বছর এই সুবিধা (ইবিএ) বহাল রাখা হয় তার জন্য সরকার এবং বিজিএমইএ একসঙ্গে কাজ করছে।

ইউরোপে ৬০ শতাংশ রপ্তানি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর প্রধান এ বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পরিবর্তন আসবে। আমরা ইবিএ পরবর্তী শুল্কসুবিধা জিএসপি প্লাসের বিষয়েও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ প্রতিনিধি এবং ব্রাসেলসে একাধিক বৈঠক করেছি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এ পদক্ষেপের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উত্তর আমেরিকা সফর প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গত বছরের আগস্ট থেকে এ বছরের জুলাই পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের পোশাকের মূল্য কমেছে ৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এ সময়ে দরপতনের চিত্রটি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয় না। আর করোনার সময়ে ‘অর্ডার ক্যানসেলেশন’ ও ‘ডিসকাউন্টের’ যেই জোয়ার আমরা দেখেছি, তাতে করে ‘ইথিক্যাল সোর্সিং’-এর দাবিটি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে এএএফএ-এর সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোক্তাদের দর নির্ধারণে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, উৎপাদন খরচের  চেয়ে কমমূল্যে পণ্য বিক্রি দীর্ঘমেয়াদে আমাদের কারও জন্যই সুফল বয়ে আনবে না।

ফারুক হাসান জানান, নতুন বাজারের সন্ধানে মাসব্যাপী এ সফরকালে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি ব্র্যান্ডিং করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

স্থগিত অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হলেও এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি। পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, মহামারীকালে গত দুই অর্থবছরে রপ্তানি কমেছে, উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হয়নি, নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়নি বললেই চলে। সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদান না করলে শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো না। তবে মহামারী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় শিল্পও ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ফ্রেইট ব্যবস্থাপনা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় কন্টেইনার ভাড়া ২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি  পেয়েছে। এছাড়া সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পণ্যের দরপতন এবং স্থানীয় পর্যায়ের কিছু সমস্যা। এগুলোর সমাধান হলেও আবার আগের অবস্থানে সহজেই ফিরে যেতে পারে তৈরি পোশাক শিল্প।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিজিএমইএর বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। এরমধ্যে রয়েছে- শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য প্রদত্ত ঋণ পরিশোধের কিস্তির সংখ্যা ১৮টির পরিবর্তে ৩৬টি করা। লোকাল ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত কাঁচামাল, সুতা ও আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদির ক্ষেত্রে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ লাইসেন্স থাকার বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া। গ্রুপ অব কোম্পানির একটি প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হলে সহযোগী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ না করা। এছাড়া সুতা থেকে নিট গার্মেন্টস উৎপাদনে অপচয় হার বৃদ্ধির কারণে জরিমানা আরোপ না করার দাবি জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত