ন্যূনতম মজুরি ও শ্রমবাজার নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২১, ০২:০৭ এএম

ন্যূনতম মজুরি, অভিবাসন ও শ্রমবাজারে শিক্ষার প্রভাব নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩ অধ্যাপক ডেভিড কার্ড, জোশুয়া অ্যাংগ্রিস্ট ও গুইডো ইমবেনস। গতকাল সোমবার রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, ন্যূনতম মজুরি, অভিবাসন ও শ্রমবাজারে শিক্ষার প্রভাব নিয়ে গবেষণায় ডেভিড কার্ড, অ্যাংগ্রিস্ট ও ইমবেনস কার্যকারণ সম্পর্ক নিয়ে  গবেষণার জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন।

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, ডেভিড কার্ড বার্কলের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক, জোশুয়া অ্যাংগ্রিস্ট ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক এবং গুইডো ইমবেনস স্ট্যানফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তারা তিনজন অর্থনীতিবিজ্ঞানে অভিজ্ঞতামূলক কাজকে পুরোপুরি নতুন রূপ দিয়েছেন।

বার্কলের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক কানাডিয়ান বংশোদ্ভূত ডেভিড কার্ডকে ন্যূনতম মজুরি, অভিবাসন এবং শ্রমবাজারে শিক্ষার প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য পুরস্কারের অর্ধেক এবং বাকি অর্ধেক ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক জোশুয়া অ্যাংগ্রিস্ট এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডাচ বংশোদ্ভূত গুইডো ইমবেনস অধ্যাপককে তাদের কাঠামোগত গবেষণার জন্য দেওয়া হয়েছে।

তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি কম নিয়োগের দিকে পরিচালিত করে না এবং অভিবাসীদের কারণে স্থানীয় বংশোদ্ভূত শ্রমিকের বেতন কমে না। এ ধরনের সামাজিক সমস্যা অধ্যয়নের উপায় তৈরির জন্য তারা নোবেল পেয়েছেন।

নোবেল কমিটি বলেছে, সামগ্রিকভাবে তার গবেষণা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব ৩০ বছর আগে বিশ্বাসের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

কার্ডের গবেষণায় আরও জানা গেছে, যারা একটি দেশে জন্মগতভাবে নাগরিক, তাদের আয়ের বিষয়টি নতুন অভিবাসীদের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে। তবে আগের অভিবাসীরা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

জোশুয়া অ্যাংগ্রিস্ট ও গুইডো ইমবেনস অর্ধেক পুরস্কার জিতেছেন পদ্ধতির বিষয়গুলো বের করার জন্য। যেগুলো এসব বিষয়ে অর্থনীতিবিদদের কারণ এবং প্রভাব সম্পর্কে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে।

১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে গোড়াপত্তন হলেও এই তালিকায় অর্থনীতি যুক্ত হয় ১৯৬৮ সালে। অর্থনীতিতে নোবেল দেওয়া হচ্ছে ১৯৬৯ সাল থেকে। ১৯৬৮ সালে সুইডিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেভেরিজেস রিক্সব্যাংক ৩০০ বছর পূর্তিতে নোবেল ফাউন্ডেশনকে যে বিপুল অর্থ দান করে, তা দিয়ে অর্থনীতিতে নোবেল প্রদান করা হবে বলে ঠিক করা হয়।

আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে এই পুরস্কারের পুরো নাম রাখা হয় ‘দ্য সেভেরিজেস রিক্সব্যাংক প্রাইজ ইন ইকোনমিক সায়েন্সেস ইন মেমোরি অব আলফ্রেড নোবেল।

পদার্থ, রসায়ন ও অর্থনীতিতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স। রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি থেকে সাহিত্য এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।

গত ৪ অক্টোবর চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার মাধ্যমে চলতি বছর নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়েছে। তাপমাত্রা ও স্পর্শের রিসেপ্টর আবিষ্কারের জন্য এবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ডেভিড জুলিয়াস ও আর্ডেম প্যাটাপৌসিয়ান। অপরদিকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিনজন। তারা হলেন জাপানি আবহাওয়াবিদ স্যুকুরো মানাবে, জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ক্লাউস হাসেলমান ও ইতালিয়ান পদার্থবিদ জর্জিও পারিসি।

চলতি বছর রসায়নে নোবেল পেয়েছেন জার্মানির বেঞ্জামিন লিস্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড ম্যাকমিলান। ‘অ্যাসাইমেট্রিক অর্গানোক্যাটালাইসিস’ নামে অণু তৈরির নতুন এক কৌশল আবিষ্কার করে এ সম্মাননা জিতে নিয়েছেন তারা।

এবার সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন তানজানিয়ার ঔপন্যাসিক আব্দুলরাজাক গুরনাহ। প্যারাডাইস নামে তার চতুর্থ উপন্যাসের জন্য তিনি এ সম্মাননা পেয়েছেন।

সর্বোচ্চ সম্মানজনক পুরস্কার, অর্থাৎ নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা এবং রাশিয়ার সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য দুঃসাহসিক লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত