বাংলাদেশে করোনা মহামারির সময় বাল্যবিয়ে বেড়ে গেছে যার অন্যতম কারণ ছিল প্রায় দেড় বছরের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা।
অন্যান্য কারণের মধ্যে অন্যতম ছিল এ সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কম থাকা, প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে ফেরত আসা যারা কিনা ভালো পাত্র হিসেবে সমাজে আদৃত, পরিবারের আয় কমে যাওয়া এবং কন্যা সন্তানকে বোঝা মনে করা ইত্যাদি।
আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস ১৫ অক্টোবর। এই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করেছে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন জাতীয় কমিটি। সেখানে এ সব কথা ওঠে আসে।
সেখানে বলা হয়, বাল্যবিয়ের ফলে দেশব্যাপী ঝরে পড়া স্কুলছাত্রীর সংখ্যাও বেড়েছে যা সম্প্রতি স্কুল খুলে দেওয়ার পর শ্রেণিকক্ষের তাদের উপস্থিতিই বলে দিচ্ছে।
বক্তারা বলেন, দ্রুত সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলা না গেলে আমাদের কন্যারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে আরও পতিত হবে। পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন জাতীয় কমিটির সভাপ্রধান শামীমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কমিটির সদস্য তামান্না রহমান, আবু হানিফ, বেলাল হোসেন, লুৎফর রহমান লাবু, মাসুদা ফারুক রত্মা, পি এম বিল্লাল, রাশিদা বেগম, শেখ আসাদ, খন্দকার ফারুক আহমেদ, তাহরিমা আফরোজ, আশরাফুল হাসান তাইমুর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফেরদৌস আরা রুমী।
ফেরদৌস আরা রুমী মূল বক্তব্যে বলেন, বাল্যবিবাহে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। ইউনিসেফের মতে, সারা দেশে ৪০ লাখের বেশি বালিকাবধূ। তারও পর করোনা মহামারিতে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে বাল্যবিবাহ। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে প্রশাসনসহ আইন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মহামারি নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকায় বাবা-মায়েরা এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন।
এ সময় বিয়ে বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে দেখা গেছে— ভালো পাত্র, বাড়ির মুরব্বির ইচ্ছা পূরণ, ছেলে-মেয়ের প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার ভয়, শিশু যৌন হয়রানি বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, অর্থনৈতিক অসংগতি ইত্যাদি। বিদ্যালয়ে পাঠদান নিয়মিত থাকলে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় যেমন ব্যস্ত থাকতো তেমনি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিচালিত ক্লাবগুলোও সচল থাকতো।
তামান্না রহমান বলেন, করোনায় স্কুল থেকে ঝরে পড়া ছাত্রীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে যাদের অধিকাংশই বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। এসব বিয়ের অধিকাংশই নিবন্ধন হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে কোন আইনি সহায়তা দরকার হলে তারা বঞ্চিত হবে।
এ ছাড়া ইক্যুইটিবিডির মোস্তফা কামাল আকন্দ এবং কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
