পাবনায় সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়িবহর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর আটক মাইক্রোবাস চালক হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে তাকে আদালতের হাজিরের পর বিজ্ঞ আদালত জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে উপজেলার রানীনগর ইউনিয়নের ভাটিকয়া বাজারে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিনের বহরে আসা মাইক্রোবাস থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। পরে, অস্ত্র ও মাইক্রোবাস জব্দ করে আমিনপুর থানায় নেয়া হয়।
গ্রেপ্তার হাবিবুল্লাহ সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের কাঁচিপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রওশন আলী জানান, শুক্রবার বিকেলে রানীনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে বর্ধিত সভায় নিজ সমর্থকদের গাড়িবহর নিয়ে রানীনগর ইউনিয়নের ভাটিকয়া বাজারে আসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বহরের সঙ্গে আসা একটি কালো মাইক্রোবাসে তল্লাশি করে একটি ওয়ান শূট্যারগান একটি শর্টগান পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, পরে যাচাই বাছাই শেষে পুলিশ নিশ্চিত হয়, ওয়ান শূট্যারগানটি লাইসেন্সকৃত ও শটগানটি অবৈধ। লাইসেন্সকৃত অস্ত্রটি সুজানগর পৌরসভার কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম জনির বাবা তোফাজ্জল হোসেনের নামে ইস্যু করা বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। মালিক ছাড়া অন্য কেউ লাইসেন্সকৃত অস্ত্র এভাবে নিয়ে যেতে পারেন না বলেও জানান তিনি।
ওসি রওশন আলী আরও জানান, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় হাবিবুল্লাহসহ মোট ৫ জনকে আসামি করে শুক্রবার রাতে মামলা করা হয়েছে। অপর ৪ আসামি পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে নাম পরিচয় জানাতে রাজি হননি তিনি।
গাড়ির মালিক উজ্জ্বল হোসেন জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনের নামে শুক্রবার চারটি গাড়ি ভাড়া দেয়া হয়েছিল। গাড়িতে তারা অস্ত্র রাখে সে ক্ষেত্রে চালকের কিছু করার থাকে? আটক চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে যারা অস্ত্র গাড়িতে রেখেছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।
সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের ২য় ধাপের নির্বাচনে অধিকাংশ ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিনের পছন্দের লোকজন মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়েছেন। নিজে নেতৃত্ব দিয়ে এসব ইউনিয়নে নৌকার ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাতে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছেন। শুক্রবার রানীনগর ইউনিয়নের পূর্বনির্ধারিত সভায় তিনি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ে উপস্থিত হন।’
এ বিষয়ে সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, একটি বর্ধিত সভায় অনেক নেতা কর্মী ও গাড়ি ছিল। কে কী অবস্থায় ছিলেন সেটা আমার জানার কথা নয়। তা ছাড়া অস্ত্র উদ্ধারের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষের লোকজন হিংসাত্মকভাবে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও মনগড়া নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, অস্ত্রের মালিকও আমি না, অস্ত্র নেয়ার বিষয়টিও আমি জানি না।
