তফসিল ঘোষণা হলেও নির্বাচন হচ্ছে না কুন্ডেরচর-পালেরচর ইউপিতে

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৫১ এএম

পঞ্চম ধাপে শরীয়তপুর জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে গত ২৭ নভেম্বর।

এর মধ্যে নদী ভাঙনের কারণে কুন্ডেরচর ও পালেরচর ইউনিয়নে সীমানা নির্ধারণ কার্যক্রম চলমান থাকায় ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

জাজিরা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল।

আজ ১২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই ও ১৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ৫ জানুয়ারি এসব ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ করার কথা রয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার শাখার মাধ্যমে কুন্ডেরচর ও পালেরচর ইউনিয়নে ওয়ার্ড সীমানা নির্ধারণ চূড়ান্ত হলে তারপর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই দুটি ইউনিয়নে পরবর্তী নির্বাচন হবে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারি জাজিরা উপজেলার জয়নগর, কুন্ডেরচর ও পালেরচর ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কুন্ডেরচর ও পালেরচর ইউনিয়নে ৫ম ধাপে নির্বাচন হচ্ছে না। তবে পরের ধাপে নির্বাচন কমিশন ওই দুটি ইউনিয়নে নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুন্ডেরচর ইউনিয়নের ৬,৭,৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড পদ্মা নদীর গর্ভে চলে গেছে। চারটি ওয়ার্ডের ভোটার ও সাধারণ মানুষ ইউনিয়নের বাইরে বিভিন্ন এলাকায় বাস করছে। তাই ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ গেজেটে ওই ওয়ার্ডগুলো সীমানা পুনর্নির্ধারণে প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়।

এ ছাড়া ২, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তত ৩০০ পরিবারের ভিটামাটি পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। তাই ভোটারদের বর্তমান অবস্থানের কারণ ও ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস জটিলতা, ভোট কেন্দ্র করার জটিলতা আছে।

এ কারণে কুন্ডেরচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন ব্যাপারী প্রধান নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসক, ফরিদপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন অফিস, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস করে তারপর নির্বাচন করার জন্য আবেদন করেছেন।

এদিকে কুন্ডেরচর ইউনিয়নবাসী সদ্য প্রকাশিত গেজেট বাতিলের প্রতিবাদ সভা করেছেন।

আজ রবিবার সকাল ৯টার দিকে বিলাসপুর ইউনয়নের সখিকাজির মোড়ে এ সভা করা হয়। এতে পাঁচ শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ১১ বছর পর কুন্ডেরচর ইউনিয়নে নির্বাচন হবে শুনে আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছিলাম আমরা। আমাদের চারটি ওয়ার্ড যাতে হারিয়ে যায় ও আমাদের ভোটাধিকার না থাকে তাই তফসিল ঘোষণার পরপর চক্রান্তকারীরা চক্রান্ত করে তফসিল বাতিল করেছে। তাই আমরা চক্রান্তকারী, ষড়যন্ত্রকারী ও নির্বাচন বানচালকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত