পেমেন্ট ও সেটেলমেন্ট আইনের খসড়া অনুমোদন

ব্যাংক লেনদেনে মিথ্যা তথ্য দিলে ৩ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৫৭ পিএম

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের পরিশোধিত টাকা সংগ্রহ ও তা মার্চেন্ট বা সেবা প্রদানকারীর হিসাবে স্থানান্তরের মতো সেটেলমন্ট কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দিলে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন-২০২১’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ খসড়া অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পেমেন্ট এবং সেটেলমেন্ট সম্পর্কিত কোনো আইন ছিল না। কিছু রেগুলেশন দিয়ে পরিচালিত হতো। বর্তমান অবস্থায় ডিজিটাল লেনদেন হওয়ার কারণে এ আইন নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই খসড়া আইনে ৪৭টি ধারা রয়েছে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রা এ খসড়া আইনে যুক্ত করা হয়নি। ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো কারেন্সি নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকও একে স্বীকৃতি দেয়নি। ডিজিটাল ব্যাংকিং বলতে ক্রিপ্টোকারেন্সি বোঝায় না, এটা খেয়াল রাখতে হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘খসড়া আইনের ৩৮ নম্বর ধারায় যারা বিভিন্ন রকমের অপরাধ করবে, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। আর ৩৯ ধারাতে ব্যাংক, কোম্পানির মাধ্যমে গৃহীত বা সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে এ কোম্পানির মালিক, পরিচালক, কোম্পানির প্রধান নির্বাহী, ব্যবস্থাপক, সচিব বা অন্য কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাদের পদ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্র্তৃক অপসারণের বিধান রাখা হয়েছে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, খসড়া আইনে কিছু বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কীভাবে লেনদেন হবে, পরিশোধ হবে, পরিচালনা হবে এবং সেবা কীভাবে দেওয়া হবে, সেগুলো ৪ এবং ৫ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। ৪ নম্বর ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দিতে পারবে।’

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘ধরুন কাউকে কোনো কারণে সাসপেন্ড করা হলো, আপনি লেনদেন করতে পারবেন না, কিন্তু তিনি যদি আদেশ ভঙ্গ করে লেনদেন করেন তাহলে তাকে এ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এটাই সর্বোচ্চ শাস্তি।’

মিথ্যা তথ্য বা দলিল বা বিবৃতি দিলে অনধিক ৩ বছরের কারাদণ্ড, অনধিক ৫০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের কথা বলা হয়েছে ওই খসড়া আইনে। তাছাড়া গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণে ফি আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

খসড়া আইনটি নগদ, বিকাশসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, ‘পেমেন্টের যে ব্যবস্থাপনা, সে বিষয়ে কোনো আইন ছিল না। কিছু রেগুলেশনের আন্ডারে করা হতো। এখন দেখা যাচ্ছে যে এটা ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। সে জন্য পুরো পদ্ধতিগুলোকে আলাদা করে আইনে আনা হয়েছে।’

একইদিন বাণিজ্য সংগঠন আইনের খসড়াও অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এই খসড়ায় বিদেশি ব্যবসায়ীদের নিয়ে দেশে যৌথ বাণিজ্য সংগঠন তৈরির সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘এটা করতে দুই-তিন বছর ধরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চেষ্টা করছে। তারা বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২১ নিয়ে এসেছেন। এখানে ৩২টি ধারা আছে।

‘বাণিজ্য সংগঠনে নারী উদ্যোক্তাদের লাইসেন্সের মাধ্যমে আইনি ভিত্তির বিধান রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এ ধরনের কোনো দেশ বা অঞ্চলে ব্যবসা, শিল্প বা বাণিজ্য ও সেবা খাতে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য যৌথ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং একাধিক যৌথ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সমন্বয়ে গঠিত চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যালায়েন্সের বিধান রাখা হয়েছে’Ñ যোগ করেন তিনি।’

তিনি বলেন, ‘অন্য দেশ থেকে এসেও আমাদের দেশে তারা (বিদেশি ব্যবসায়ীরা) একটি জয়েন্ট চেম্বার করতে পারবেন। মেয়েদের জন্য আলাদা চেম্বারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তারা মূল চেম্বারের সদস্য হতে পারবেন, তবে শুধু নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠিত করার জন্য আলাদা চেম্বার করতে পারবেন।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘যেমন আমাদের ঢাকায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে আবার মেট্রোপলিটন চেম্বার রয়েছে। মেয়েরা যেহেতু এখনো পর্যন্ত প্রকৃত উদ্যোক্তা হিসেবে প্রমিনেন্ট হননি, সে জন্য তাদের কিছু প্রাধিকার দিতে আলাদা চেম্বারের কথা বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মহিলা চেম্বারের সভাপতি বা সেক্রেটারির মতো নেতারা প্রধান চেম্বারের বোর্ডের সদস্য থাকবেন। এফবিসিসিআই তাদের পথনির্দেশনা দেবে। সব জেলায় মহিলা চেম্বার নেই, ৩৪টি জেলায় আছে। যেখানে হয়তো কমফরটেবল সিনারিও নেই, সেখানে হবে না। তবে প্রভিশনটা রাখা হয়েছে। এটার জন্য একটি লাইসেন্স নিতে হবে এবং ফিও দিতে হবে। সেন্ট্রাল যে চেম্বার থাকবে, তার সঙ্গে তাদের লিংক থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত