দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে তালিকাভুক্তির নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল সোমবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে এক বৈঠকে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন এসইসির কমিশনার অধ্যাপক শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ। আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে শেয়ার অফলোড সংক্রান্ত লিখিত প্রস্তাবনা কমিশনে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
মালিকানা থেকে স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ সংক্রান্ত ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইনেও ডিএসই ও সিএসইকে শেয়ার অফলোডের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতিমধ্যে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ শেয়ার অফলোডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্টক এক্সচেঞ্জটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) সাইফুর রহমান মজুমদার। গতকাল তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, ডিএসইর শেয়ার অফলোড বিষয়ে পর্ষদ ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে গাইডলাইন চাইতে গতকাল কমিশনের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কমিশন থেকে শেয়ার অফলোডের প্রস্তাবনা জমা দিতে বলেছে।
বর্তমানে ডিএসইর পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ১ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ রয়েছে চীনা কনসোর্টিয়ামের হাতে। ডিএসইর পরিশোধিত মূলধনের ৩৫ শতাংশ শেয়ার ব্লক করে রাখা আছে। এ শেয়ারগুলো অফলোড করা হবে। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ৬৩৪ কোটি টাকা।
পুঁজিবাজারে চাঙ্গাভাব ফিরিয়ে আনতে এসইসি বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কাজে লাগছে না। উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম শেয়ার ধারণ ও স্বল্প মূলধনের কোম্পানিগুলোকে ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা করার নির্দেশনা দেওয়ার পরও পতন হয়েছে বাজারে। টানা পতনে বিনিয়োগকারীরাও অতিমাত্রায় সতর্কতা অবলম্বন করছেন। লেনদেনে অংশগ্রহণ কমিয়ে দিয়েছেন তারা। ফলে পতনের দ্বিতীয় দিনে ডিএসইতে লেনদেন নেমে এসেছে ৬৯৬ কোটি টাকা, যা গত আট মাসে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৬০২ কোটি টাকা।
গতকাল ডিএসইতে ৩৭৭টি সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে দর বেড়েছে ১০১টির, কমেছে ২২৮টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৮টির। অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ৩৮ পয়েন্ট।
