দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ৮ কর্মকর্তাসহ ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল রবিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
অর্থ আত্মসাতের সহযোগিতার অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের এমডি অ্যান্ড সিইও হুমায়ুন কবীর, ডিএমডি মাইনুল হক, জিএম মীর মহিদুর রহমান ও ননী গোপাল নাথ, ডিজিএম শেখ আলতাফ হোসেন ও মো. সফিজ উদ্দিন আহমেদ, এজিএম সাইফুল হাসান ও কামরুল হোসেন খানকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডসহ প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে এবং জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাদের আরও তিন মাস বেশি বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায় প্রদান করে আদালত। দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে হুমায়ুন কবীর, ননী গোপাল নাথ ও সাইফুল ইসলাম পলাতক আছেন।
এ ছাড়া অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ডিএন স্পোর্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোতাহার উদ্দিন চৌধুরী ও তার মেয়ে পরিচালক ফাহমিদা আক্তার এবং প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর সফিকুর রহমান জনকে তিন বছর করে কারাদণ্ডসহ ১ কোটি ৪২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৪ টাকা অর্থদণ্ড করেছে, অনাদায়ে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ১ কোটি ৪২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৪ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতারণার অভিযোগে তাদের আরও ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
তবে সাজা একত্রে চলবে বলে আদেশে উল্লেখ করেছেন বিচারক। সে ক্ষেত্রে তাদের ৫ বছর কারাভোগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০১২ সালের ২৭ মের মধ্যে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের হোটেল শেরাটন শাখা থেকে ডিএন স্পোর্টস লিমিটেডের নামে প্রিশিপমেন্ট ক্রেডিট (পিএসসি) বাবদ ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা তুলে তা আত্মসাৎ করেন আসামিরা। এই অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক সেলিনা আক্তার মনি ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি ১৬ জনকে আসামি করে রমনা থানায় এ মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে ১১ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৪ সালের ২২ মে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত।
তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৪২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৪ টাকা আত্মসাতের তথ্য উঠে আসে। ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বর ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলাটির বিচার চলাকালে ৪৪ জনের সাক্ষ্য নিয়ে এ রায় দেওয়া হয়।
