রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন

বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৮

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৫৩ এএম

বিদায়ী বছরের ডিসেম্বর মাসে সারা দেশে ৩৮৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪১৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৪৯৭ জন। নিহতের মধ্যে ৬৩ জন নারী এবং শিশু রয়েছেন ৪৯ জন। শুধুমাত্র মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৭৮ জন, যা মোট নিহতের ৪২.৫৮ শতাংশ। গত নভেম্বর মাসের তুলনায় ডিসেম্বর মাসে দুর্ঘটনাসহ নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। ৭টি জাতীয় দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে ডিসেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। গতকাল শনিবার প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

রোড সেফটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৬৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৭৮ জন, যা মোট নিহতের ৪২.৫৮ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৩.৬০ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১২৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩০.৩৮ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৯ জন, অর্থাৎ ১৬.৫০ শতাংশ।

এছাড়া নৌপথে ৩টি নৌযান ডুবির দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনায় ৪৯ জন নিহত, ৩৪ জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন এবং অজ্ঞাতসংখ্যক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। ১৩টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৪৯টি ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে; যা মোট দুর্ঘটনার ৩৮.৯০ শতাংশ আর আঞ্চলিক সড়কে ঘটেছে ১২৪টি দুর্ঘটনা, যা ৩২.৩৭ শতাংশ। ৬৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে গ্রামীণ সড়কে, যা মোট দুর্ঘটনার ১৭.৪৯ শতাংশ । ৩৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে  শহরের সড়কে, যা মোট দুর্ঘটনার ১০.১৮ শতাংশ এবং অন্যান্য স্থানে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পরিমাণ ৪টি,  যা দুর্ঘটনার ১.০৪ শতাংশ ।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১০২টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ১১৩ জন। সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে। ১৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৯ জন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ২৩টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হন। সবচেয়ে কম সুনামগঞ্জ জেলায়। ৩টি দুর্ঘটনা ঘটলেও কেউ হতাহত হননি। রাজধানী ঢাকায় ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

সড়কে এসব দুর্ঘটনার জন্য ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সক্ষমতার ঘাটতিসহ গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজির কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করে সংগঠনটি। 

প্রসঙ্গত, বিদায়ী বছরের নভেম্বর মাসে ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৩ জন নিহত হয়েছিলেন। ডিসেম্বর মাসে ৩৮৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪১৮ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত