আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২ জন নিহত

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২২, ০২:০৬ এএম

আধিপত্য বিস্তার ও গ্রামে ফেরাকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর রায়পুরার বাঁশগাড়ীতে আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১ জন গুলিবিদ্ধসহ ২ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। এর মধ্যে নূরুল হক (১৯) নামে গুলিবিদ্ধ একজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গতকাল রবিবার দুপুরে রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী ও মির্জাচর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন রায়পুরার মির্জাচর ইউনিয়নের মির্জাচর এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া ও মির্জাচর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (৩০)। রুবেল মির্জাচরের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুকুল ইসলামের চাচাতো ভাই এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত নূরুল হক বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের বাঁশগাড়ী গ্রামের সাধন মিয়ার ছেলে। তারা দুজনই নরসিংদীর রায়পুরার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের সদ্য সাবেক আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান আশ্রাফুল হকের সমর্থক। মামুন মিয়া মির্জাচর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিকের সমর্থক।

জানা যায়, এলাকার আধিপত্য ও ও নির্বাচনী সংহিংসতার জের ধরে দীর্ঘদিন যাবৎ  নরসিংদীর রায়পুরার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের সদ্য সাবেক আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান আশ্রাফুল হকের সঙ্গে বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জাকির হোসেন রাতুলের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

মির্জাচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুকুল ইসলাম বলেন, বাঁশগাড়ীর সাবেক চেয়ারম্যান আশ্রাফুলের লোকজনকে গ্রামে তুলে দিতে মির্জাচর থেকে লোকজন বাঁশগাড়ী যায়। সেখানে তাদের ধাওয়া দিয়ে মির্জাচর পাঠালে বাঁশগাড়ীর রাতুল চেয়ারম্যানের হয়ে মির্জাচরের মানিক চেয়ারম্যানের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। ওই সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আমার চাচাতো ভাই রুবেল মারা যায়।

অভিযোগ অস্বীকার করে মির্জাচর ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিক সাংবাদিকদের বলেন, মূলত বাঁশগাড়ীর সাবেক চেয়ারম্যান আশ্রাফুল ও মির্জাচরের ফারুকুল ইসলাম এক গ্রুপ। তারা একে অপরকে বরাবরই সহায়তা করে। রবিবার আশ্রাফুলের লোকজনকে গ্রামে তুলে দিতে ফারুকুলের লোকজন লাঠিয়াল হিসেবে বাঁশগাড়ী যায়। সেখানে রাতুল চেয়ারম্যানের লোকজন তাদের বাধা দেয় এবং ধাওয়া দিয়ে মির্জাচর এনে গন্ডগোল করে। এতে ২ জন নিহত হয়। এর মধ্যে একজন আমার সমর্থক অপরজন ফারুকুলের সমর্থক।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, গ্রামে ফেরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১ জন নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। এই মুহূর্তে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরবর্তী সংহিসতা রোধে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত