সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:০৭ এএম

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে বাংলা একাডেমি এবং স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা ২০২২-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষায় সাহিত্যচর্চা যেমন জরুরি তেমনি অনুবাদের মাধ্যমে আমাদের সাহিত্যকে বিশ্ব-পরিসরে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আঞ্চলিক সাহিত্য সম্মেলন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে উন্নত চিন্তা-চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা অতি প্রয়োজন। আমাদের প্রত্যেক জেলায় বা মহকুমায় অতীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো, সাহিত্যচর্চা হতো, সাহিত্য সম্মেলন হতো, সাহিত্য নিয়ে আলোচনা হতো। এই চর্চাটা অনেকটা কমে গেছে। এটাকে আবার একটু চালু করা দরকার।’

প্রত্যেক জেলার পাশাপাশি এখন উপজেলা পর্যায়েও শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকেও আপনারা যদি একটু উদ্যোগ নেন তাহলে আপনারা দেখবেন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেক মেধাবী কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী আমরা পাব। এতে তাদের জ্ঞান ও মেধা বিকাশের যেমন সুযোগ আসবে তেমনি মানুষের হৃদয়ের খোরাকটাও তো দরকার। খাদ্য নিরাপত্তা আমরা করে দিয়েছি, এখন হৃদয়ের খোরাকটা জোগাতে হবে। আর তা সংস্কৃতিসেবীদের মধ্য থেকেই আসে। সাংস্কৃতিক জগৎ বা আমাদের শিল্প সাহিত্য জগৎ বা এই ধরনের মেলা যদি হয় বা অনুষ্ঠানগুলো যদি হয় তাহলে কিন্তু আমাদের যারা যুবসমাজ রয়েছে তারাও ভিন্ন পথে যাবে না। তারা বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য এবং বাংলা সংস্কৃতির প্রতিও আন্তরিক থাকবে।’

প্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশে মুদ্রিত বইয়ের বিকল্প আবিষ্কৃত হলেও ছাপা বইয়ের আবেদন কখনো ফুরোবে না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ জন্যই অমর একুশে বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং ভাষা আন্দোলনের সত্তর বছরের মাহেন্দ্রক্ষণে অমর একুশে বইমেলা ২০২২ প্রাণপূর্ণ এবং পাঠকপ্রিয় হবে বলে আমরা আশা করি।’

করোনার কারণে এবারের বইমেলায় আসতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তার শিক্ষাজীবনে দিনভর বইমেলায় ঘুরে বেড়ানোর স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, বিরোধী দলে থাকার সময়ও তিনি বইমেলাতে গিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নিরাপত্তার অজুহাতে পায়ে ‘শেকল পরা’তে তা আর সম্ভব হয়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাম্প্রতিক করোনা মহামারীর কারণে গত বছর এবং এ বছর অমর একুশে বইমেলা নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। আমরা করোনা এবং অন্যান্য অসুস্থতায় বাংলা একাডেমির তিনজন সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান এবং মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীকে হারিয়েছি। তাদের সবাইকে আমরা যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি, তেমনি একুশে বইমেলায় আগত সবাইকে নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে অনুরোধ করি। এটা একান্তভাবে দরকার।’

সরকারের টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা টিকা দিচ্ছি। বুস্টার ডোজও দেওয়া হচ্ছে। যারা নেননি অবশ্যই তাদেরকে টিকা এবং বুস্টার ডোজটা নিয়ে নিতে হবে। যাদের এখনো টিকা নেওয়া হয়নি তারা সবাই কিন্তু টিকাটা নেবেন। অন্তত টিকাটা নেওয়া থাকলে আপনি একটু সুরক্ষিত থাকবেন। এই কথাটা সবাইকে একটু মনে রাখতে হবে। আর একটু মাস্কটা পরে থাকলেও নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যায়।’

বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি সচিব মো. আবুল মনসুর, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি আরিফ হোসেন ছোটন।

জাতীয় সংগীতের পরই অমর একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ পরিবেশনের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর ভাষাশহীদদের স্মরণে সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

সরকারপ্রধান বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপনের চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমি ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবর্ষ গ্রন্থমালা’ প্রকাশ অব্যাহত রেখেছে। ইতিমধ্যে ৪০টিরও অধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নিজেও অনেক গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন উল্লেখ করে এই ধারা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত