অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম জ্বালানি বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা। ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষা সম্পর্কিত বিষয়ে তিনি কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে। তেল, গ্যাস ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তর সম্পাদকীয় বিভাগের এহ্সান মাহমুদ
দেশ রূপান্তর: বিগত কয়েক বছরে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়েছে। অপরদিকে, দফায় দফায় দামও বাড়ানো হয়েছে। এরইমধ্যে আরও দাম বাড়ানোর আলোচনা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু সরকার যে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক উন্নয়নের দাবি করে থাকে তার সঙ্গে দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে মেলানো কঠিন। সহজ হিসাবে উৎপাদন বাড়লে দাম কমার কথা। তা হচ্ছে না কেন বলে মনে করেন?
এম শামসুল আলম: বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নের প্রধান বাধা নীতি-পরিকল্পনায় দুর্বলতা। সরকার বাস্তবতার নিরিখে পরিকল্পনা নেয়নি। ভোক্তার স্বার্থ না দেখে ব্যবসায়িক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। প্রায় শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছে। উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ক্ষমতা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ব্যয় বাড়ছে। বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধিতে বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যয় বাড়ছে। ভোক্তার বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষমতা কমছে। ফলে একদিকে ভোক্তা বিদ্যুৎ খরচ করছে, অন্যদিকে আর্থিক ঘাটতি বাড়ায় ভর্তুকি ও মূল্যবৃদ্ধি দুটোই বেড়েই চলেছে। দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের জন্য মানুষ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুফল পাচ্ছে না। প্রকৃত অর্থে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন হয়নি। ঢাকার বাইরে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। কারণ, বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা। আবার বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে। অভিযোগ রয়েছে, ভর্তুকি কমানোর জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনও এখন কম করা হয়। বাস্তবে দেখা যায়, সক্ষমতা উন্নয়নে মান রক্ষা না হওয়ায় চাহিদার তুলনায় উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎবিভ্রাট নিয়ন্ত্রণে নেই। ১০ ডলারের মিটার ২৫ ডলারে কিনে প্রান্তিক ভোক্তার ৩০ টাকারও কম বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে মাসে ৪০ টাকা মিটার ভাড়া আদায় করে। চুক্তির প্রথম মেয়াদেই প্রদত্ত ক্যাপাসিটি চার্জে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় উসুল হয়েছে অথচ এরপর চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও সেই চুক্তির মেয়াদ বারবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে অথচ চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো অব্যাহত রাখা হয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে কম দামে সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানো হয়েছে। অথচ সেই গ্যাস ব্যক্তি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দিয়ে সেখান থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে। নিজস্ব গ্যাস ও কয়লা সাশ্রয়ী মূল্যে উত্তোলন ও ব্যবহারের দিকে গুরুত্ব না দিয়ে আমদানিকৃত কয়লা, এলএনজি ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই হলো বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নর স্বরূপ যা ভোক্তা বা গণবান্ধব নয়, অসাধু ব্যবসাবান্ধব।
দেশ রূপান্তর: আমরা যতদূর জানি যে, ২০১০ সালে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সরকার একটি মাস্টারপ্ল্যান করেছিল। প্ল্যান অনুযায়ী কাজ এগোচ্ছে কতদূর?
এম শামসুল আলম: আপনি যে প্ল্যানটির কথা বলছেন, তা করানো হয় জাপানি সংস্থা জাইকাকে দিয়ে। দেখা যায় তারাই বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা সরবরাহকারী জাপানি ঠিকাদারের অর্থের জোগানদাতা। কোল টার্মিনালও জাপানি অর্থায়নে হচ্ছে। মাস্টারপ্ল্যানটি যদি তারা না করত, তাহলে সমস্যা ছিল না। কারণ, তা হতো স্বার্থসংঘাত মুক্ত। আশঙ্কা ছিল, এ কয়লা বিদ্যুতের মূল্য অনেক বেশি হবে। তাই হয়েছে। আমদানিকৃত কয়লায় পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় এখন ১০ টাকার অধিক। অথচ ভারত থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের মূল্য ৫.৮২ টাকা। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা দেশীয় বিশেষজ্ঞদের দিয়ে মাস্টারপ্ল্যান করতে পারি না। বিদ্যুৎ বিতরণ প্রসঙ্গে বলতে চাই। ২০০৪-০৫ সাল থেকে বিতরণ ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। তখন মাইলের পর মাইল কেবল খাম্বা বসানো হয়। তার টানানো হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ দেওয়া হয় না। আমরা বারবার বলেছিলাম মানুষকে যেহেতু বিদ্যুৎ দিতে পারছেন না, সেহেতু বিতরণ ক্ষমতা বাড়িয়ে ব্যয় বাড়ানো উচিত নয়। তখন বলা হয়, একসময় তো কাজে লাগবেই। এ যুক্তিতেই হাজার হাজার কিলোমিটার বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হয়। কতটুকু দরকার, সেই চাহিদা নিরূপণ করে বিতরণ ক্ষমতা বাড়ানো বা অবকাঠামো তৈরি হয়নি। বলা যায়, উৎপাদন, সঞ্চালন ও বণ্টন পর্যায়ে অসাধু ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটেছে। এমন উন্নয়নে অসাধু ব্যবসায়ীর লুণ্ঠনমূলক মুনাফা লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ২০১০ সালে যে বিতরণ ইউটিলিটির ৪ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ছিল, এখন সে ইউটিলিটির সম্পদ ১৪ হাজার কোটি টাকার। তার মানে বিতরণে যে সম্পদ বাড়ানো হয়েছে, সেই অনুপাতে বিতরণ ক্ষমতা বেড়েছে কি না, বাড়লে এর পুরোটা কাজে লাগে কি না, তা দরকার আছে কি না বা এত ব্যয়ে এ সম্পদ অর্জন করা যৌক্তিক ছিল কি না, এসব প্রশ্ন কখনই খতিয়ে দেখা হয়নি। ফলে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কথিত উন্নয়ন কোনোভাবেই বলা যায় না।
দেশ রূপান্তর: বিদ্যুতের পাশাপাশি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনা হচ্ছে। একসময়ে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের কথা শোনা যেত। বাস্তব অবস্থা কেমন এখন? এই খাতের উন্নয়নে সরকার কী করেছে?
এম শামসুল আলম: গ্যাসের নতুন মজুদ সন্ধান করতে হতো। পাশাপাশি মজুদ গ্যাসও উত্তোলন করতে হতো। নিজেদের গ্যাস সম্পদ উন্নয়নে উৎসের মনোযোগী হতে হতো। যেমন বলা যেতে পারে ভোলায় মজুদ গ্যাস ব্যবহার করতে হতো। কিন্তু জ্বালানি বিভাগ তা করেনি, কৃত্রিম গ্যাস সংকট সৃষ্টি করেছে। সংকটের অজুহাতে আমদানিতে মনোযোগী হয়েছে। কারণ তাতে আমলাদের লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে। গ্যাস থেকে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছিল, সেখানে এলএনজি আসার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভর্তুকিতে গ্যাস দিতে গিয়ে এখন বাড়তি আর্থিক ঘাটতির শিকার হতে হচ্ছে। সবার ঘরে বিদ্যুৎপৌঁছাতে যেখানে ভর্তুকিতে বিদ্যুৎ দিতে হয়, সেখানে যদি তেলবিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা যেত, তাহলে এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধিতে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে সরকার বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে যে কয়লাকে জ্বালানি হিসেবে নেওয়া হয়েছিল, কয়লার পরিবর্তে যে জ্বালানি নিতে চাইছে, তাতে আরও মূল্যবৃদ্ধি ঘটবে। ভোক্তা মূল্যবৃদ্ধি মেনে নিয়ে কয়লার পরিবর্তন মেনে নিতে চায় না। আমরা কয়লার পরিবর্তন চাই। কয়লার পরিবর্তে অন্য বিকল্প জ্বালানি আসুক, যা পরিবেশবান্ধব হবে। কিন্তু সেখানে এমন ধরনের কৌশলগত পরিকল্পনা থাকতে হবে, যাতে উৎপাদন থেকে শুরু করে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ভোক্তাবান্ধব নীতি ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মূল্য নিয়ন্ত্রণ, অর্থ ঘাটতি দূর করা এবং পরিবেশসহ মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব নয়। অসাধু ব্যবসাবান্ধব বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উন্নয়ন নীতি ও কৌশল পরিবেশসহ মানুষের জীবন-জীবিকাকে বিপন্ন করেছে।
দেশ রূপান্তর: আপনি জানেন যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এর প্রভাব ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়ছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ এটি কীভাবে মোকাবিলা করবে?
এম শামসুল আলম: যুদ্ধ দীর্ঘদিন থাকবে না। আগে যেভাবে প্রথম বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে হয়েছে, এখন তা হবে না। এই যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সে বৃদ্ধির অজুহাতে ভোক্তা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি করা মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। এর আগেও আমরা দেখেছি, একবার বিদ্যুৎ কিংবা জ্বালানির দাম বাড়লে তা আর কমে না। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ে-কমে। কিন্তু বাংলাদেশে বাড়ে কেবল, কমে না।
দেশ রূপান্তর: তেলের দাম বৃদ্ধি যেভাবে চোখ রাঙাচ্ছে তাতে কভিড মহামারী থেকে পুনরুদ্ধারের পথে থাকা অর্থনীতি আবার চোট খাবে কি?
এম শামসুল আলম: করোনা মহামারীর কারণে ৭৭ শতাংশ মানুষের আয় কমে গেছে, এমন তথ্য আমরা ক্যাবের প্রতিবেদনে দেখতে পাই। বিশ্বব্যাপী বিশাল অংশের মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। করোনা পরিস্থিতি এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে মানুষের আয়ের পথগুলো ভালোমতো তৈরি হয়নি, অর্থনীতি মাত্রই গতি পাচ্ছে, এর মধ্যে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সীমিত আয়ের মানুষকে আরও চাপে ফেলেছে, এখন এই চাপ মোকাবিলা করতে মানুষ তার ব্যয় সংকোচন করবে। তবে করোনার সময় জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে বিশ্বের মধ্যে আমরা দৃষ্টান্ত রাখতে পেরেছি। এখন আমরা ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হব, এর জন্য দারিদ্র্যের সংখ্যা আরও কমিয়ে ফেলার লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করা সম্ভব হতো, যদি জ্বালানির এ মূল্যবৃদ্ধি না ঘটত। এখন ভোক্তা ভোগ ব্যয় কম করলে সরকার ভ্যাট-ট্যাক্স কম পাবে। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। ভোক্তা খরচ কমিয়ে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করল, এর ফলে সরকার রাজস্ববঞ্চিত হলো। তখন সরকার ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেবে, এর ফলে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাবে। সম্প্রতি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা এমন আশঙ্কার কথা বলেছেন। ফলে শিল্প-বাণিজ্য খাতে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হবে, অনেকে কর্মসংস্থান হারাবে। মোটকথা, করোনা আমাদের হার মানাতে পারেনি, দুর্বল করতে পারেনি, কিন্তু জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি আমাদের দুর্বল করার মতো অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। ফলে জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে সম্ভাব্য ধস ঠেকানোই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
দেশ রূপান্তর: এ সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় কী?
এম শামসুল আলম: জ্বালানি খাতের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু তা বিবেচনায় আসেনি। আমরা বরাবরই কতগুলো বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছি। একটি হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি না দেওয়ার অজুহাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে ব্যবসা খাতে পরিণত না করা। আগে গ্যাস লাভজনক খাত ছিল। এলএনজি আসার পরে গ্যাস এখন লোকসানি খাত। আগে সরকার এ খাত থেকে ৪-৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেত। এখন এলএনজির জন্য প্রতি বছর ৭-৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি লাগে। বিদ্যুতে ভর্তুকির জন্য বাজেটে এবার ৯ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এ ভর্তুকি ক্রমেই বাড়ছে। করোনাকালীন বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য কিন্তু এ ভর্তুকি বাড়েনি। স্বাভাবিক অবস্থা থাকলেও ভর্তুকির পরিমাণ এমনই হতো। এ ভর্তুকি উৎপাদনে ব্যয় হলেও পরিমাণ অনেক কম হতো। দ্বিতীয়টি হলো সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতিমুক্ত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে থাকত, মূল্যবৃদ্ধি ও ভর্তুকির দরকার হতো না। তা না হওয়ায় মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পায় না। জ্বালানি অধিকার বঞ্চিত হয়। পণ্য ও সেবার মূল্য বাড়ে। দেখা যাচ্ছে অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে পানি ও গণপরিবহনের মতো সেবার মূল্যও উত্তরোত্তর বাড়ানো হচ্ছে। তাই সমস্যা সমাধানে সর্বাগ্রে দরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে স্বার্থসংঘাত মুক্ত করা। সে জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রশাসনকে অবশ্যই আমলামুক্ত করতে হবে।
