ইউক্রেনে ক্ষতিগ্রস্ত ‘বাংলার সমৃদ্ধি’

তদন্ত কমিটিতে না রাখায় অসন্তোষ বিএমএমওএ’র

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২২, ০৭:০০ এএম

ইউক্রেনে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ এমভি বাংলার সমৃদ্ধি রকেট হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা তদন্তে নৌ-মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আজ সোমবার কমিটির সদস্যরা চট্টগ্রামে শিপিং করপোরেশন কার্যালয়ে যাবেন কমিটির সদস্যরা। এই কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব না রাখায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএমওএ) কর্মকর্তারা।

গত ২ মার্চ ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে নোঙ্গর করা অবস্থায় রকেট হামলার শিকার হয় বাংলার সমৃদ্ধি। হামলায় জাহাজটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অচল হয়ে যায় এর নেভিগেশন সিস্টেম ও মেইন জেনারেটর। জাহাজটির থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান এ ঘটনায় প্রাণ হারান। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া জাহাজের ২৮ নাবিককে পরবর্তীকালে সেখান  থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

বিএসসি সূত্র জানায়, বাংলার সমৃদ্ধি’র দুর্ঘটনা তদন্তে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গত ২০ মার্চ সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. তোফায়েল ইসলামকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে বিএসসির কোম্পানি সচিব মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার, চট্টগ্রাম নৌবাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার, চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির চিফ ইঞ্জিনিয়ার, বুয়েটের নেভাল আকিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের একজন সহযোগী অধ্যাপক ও বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (ওয়ার্কশপ)।

কমিটিকে পাঁচ দফা কার্য পরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই কমিটি প্রয়োজনে এক বা একাধিক সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কমিটিকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে।

কমিটি যে বিষয়ে কাজ করবে সেটা হলো বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজ পূর্ববর্তী বন্দর থেকে অলভিয়া বন্দরে যাত্রার আগে বা যাত্রাকালে বিএসসি বা চার্টারিং কোম্পানির কাছ থেকে যাত্রার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়েছিল কি না এবং সেক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে? রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা সতর্কতা জারির পরও জাহাজটিকে অলভিয়া বন্দরে পাঠানোর কার্যক্রম এড়ানোর সুযোগ ছিল কি না? এ কাজে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ ও ভবিষ্যতে এ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়া।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেরিন মার্চেন্ট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন মো. এনাম চৌধুরী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এ ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির দাবি করেছিলাম। কমিটিতে বিএমএমওএ’র দুজন প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাবও দিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু গঠিত কমিটিতে আমাদের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। তা ছাড়া যাদের কর্মকান্ড নিয়ে তদন্ত হবে তাদেরও কমিটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই এ কমিটি দিয়ে আদৌ আমরা আশাবাদী নই। তারপরও কমিটির কার্যক্রম আমরা পর্যবেক্ষণে রাখব, তারা কী রিপোর্ট দেয় তা দেখব। রিপোর্ট দেওয়ার পর তা দেখে আমরা পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধি গত ২১ ফেব্রুয়ারি মাল নেওয়ার জন্য তুরস্কের ইরেগলি বন্দর থেকে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে যায়। ২২ ফেব্রুয়ারি ওই বন্দরে নোঙর করে জাহাজটি। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলা শুরু হলে মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েন জাহাজটির নাবিকরা।

অলভিয়া বন্দরে রকেট হামলার ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বিএসসি। প্রশ্ন ওঠে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইউক্রেনে জাহাজ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া নিয়ে। বিএসসি কর্মকর্তারা চার্টারিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির শর্তের কথা তুলে জাহাজ পাঠাতে তারা বাধ্য ছিলেন বলে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করলেও প্রশ্ন ওঠে অর্থ বড় ছিল নাকি নাবিকদের জীবন?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত