পাকিস্তানের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান রাষ্ট্রীয় তোষাখানার উপহার দুবাইয়ে বিক্রি করেছেন। গত বৃহস্পতিবার দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এমন দাবি করেছেন। এসব উপহারের মধ্যে রয়েছে হীরার অলংকার, বালা ও হাতঘড়ি রয়েছে বলে জানিয়েছে জিও নিউজ।
রাজধানী ইসলামাবাদে বৃহস্পতিবার এক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। এতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ইমরান খান এসব উপহার ১৪ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে দুবাইয়ে বিক্রি করেছেন।’ অর্থের জন্য ইমরান খানের বিক্রি করে দেওয়া এসব উপহারের মধ্যে হীরার অলংকার, বালা ও হাতঘড়ি ছিল বলে জানান শাহবাজ। পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনিও একবার একটি হাতঘড়ি উপহার পেয়েছিলেন। তবে তিনি সেটা তোষাখানায় জমা দিয়ে দেন। তার লুকানোর কিছু নেই বলেও শাহবাজ মন্তব্য করেন।
তোষাখানার বিস্তারিত জানাতে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শাহবাজ উপহার নিয়ে এসব কথা বলেন। পিটিশন দায়ের প্রসঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, অফিশিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট, ১৯২৩ অনুযায়ী তোষাখানার বিস্তারিত প্রকাশ করা যাবে না। আইন অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্রপ্রধান যদি অন্য কোনো রাষ্ট্র অথবা দেশ থেকে কোনো উপহার পেয়ে থাকেন, সেটা তোষাখানায় জমা দিতে হবে। যদি উপহারটি নিজের কাছে রাখতে চান, নিলামের মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করে ওই পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এসব উপহার হয় তোষাখানায় থাকবে অথবা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সেই অর্থ জাতীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, ইমরান খানকে নতুন প্রধানমন্ত্রী কালিমালিপ্ত করতে চাইছেন। তার দাবি, বিদেশি রাষ্ট্র থেকে পাওয়া একটি ঘড়ি সরকার থেকে কিনে নেন ইমরান খান। পরে তিনি ঘড়িটি বিক্রি করে দেন। ফাওয়াদের প্রশ্ন, ‘সরকার থেকে কিনে নেওয়া ঘড়ি যদি প্রধানমন্ত্রী বিক্রি করে দেন, তাহলে অপরাধটা কী? ঘড়ির দাম ৫ কোটি নাকি ১০ কোটি রুপি, সেটা কোনো বিষয় নয়, যদি ঘড়িটি আমার হয় এবং সেটা বিক্রি করে দিই। এ নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকা উচিত নয়।’
