মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মোশারফ হোসেন (৫২) দলীয় কর্মীদের লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি ছুড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে গাংনী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মোশারফকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার পরও পুলিশ কেন তাকে থানায় নিয়ে ছেড়ে দিল এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করে মোশারফ হোসেনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, আটক করা হয়নি।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহেরপুর-২ আসনের এমপি সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নিজের ঘর অশান্ত করার পর এখন গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের শান্ত ঘরকে অশান্ত করতে চায়। এ গুলির ঘটনা তারই ইন্ধনে হয়েছে। সন্ত্রাসী কায়দায় গুলি চালানো যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা না হলে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হবে এবং গাংনী আওয়ামী লীগ অশান্ত ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে।’
স্থানীয় নেতাকর্মী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত ৯টার দিকে গাংনীর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুজ্জামান সিপুসহ আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী যুবলীগ নেতা মোশারফ হোসেনের গাংনী শহরের অফিসে গেলে সেখানে উভয়ের মধ্যে বাগ্বিত-া বাধে। এ নিয়ে বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন জেলা পরিষদ মার্কেটে মোশারফ হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা শুরু হলে তিনি তার কোমর থেকে নিজের ব্যবহৃত পিস্তল উঁচিয়ে সাইফুজ্জামান সিপুসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে পরপর চার রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেন। পরে যুবলীগ নেতার গুলির ঘটনা জানাজানি হলে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা তার অফিসে হামলা চালান।
এ ব্যাপারে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মোশারফ গতকাল বলেন, ‘গত সোমবার এমপি সাহিদুজ্জামান খোকনকে রাজাকারপুত্র উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলন করি। এর জের ধরে রাতে এমপির লোকজন আমার দলীয় অফিস ঘেরাও করে আমার ওপর চড়াও হয়। এ সময় প্রাণ রক্ষার্থে আমি গুলি ছুড়ি।’
গাংনী থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক জানান, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থেকে যুবলীগ নেতাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেন গুলি করেছেন, তিনি এভাবে গুলি করতে পারেন কি না এবং তার অস্ত্রের লাইসেন্স আছে কি না তা যাচাই করার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
