পুঁজিবাজারে লেনদেন কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ার দরহ্রাসের সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন সীমায় আকারও পরিবর্তন এনেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকালের নতুন নির্দেশনায় শেয়ার দরহ্রাসের সর্বনিম্ন সীমা ২ শতাংশের পরিবর্তে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ১০০ টাকার একটি শেয়ার সর্বোচ্চ ৫ টাকা কমে ৯৫ টাকায় কেনাবেচা করা যাবে। এর আগে ১০০ টাকা শেয়ার সর্বোচ্চ ২ টাকা কমে ৯৮ টাকায় লেনদেন করা যেত।
পুঁজিবাজারে নিয়মিত দরপতন ও ক্রেতা সংকট দেখা দেওয়ায় এসইসি নতুন করে এ সার্কিট ব্রেকার আরোপ করেছে। গতকাল বুধবার এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে এসইসি, যা আজ বৃহস্পতিবারের লেনদেন থেকে কার্যকর হবে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দরপতন শুরুর পর সার্কিট ব্রেকারের নিয়মে সাময়িকভাবে পরিবর্তন এনেছিল এসইসি। আগে যেখানে নির্দিষ্ট দিনে ২০০ টাকা বা এর নিচে থাকা কোনো শেয়ার আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইসের তুলনায় ১০ শতাংশে কম মূল্যে কেনাবেচার সুযোগ ছিল, তা ২ শতাংশে কমিয়ে আনা হয়। গত ৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এ পরিবর্তনের আদেশ দেয় এসইসি।
দরপতনের মাত্রা কমাতে নেওয়া ওই ব্যবস্থার কারণে প্রথম সপ্তাহে ভালো ফল মিললেও পরে ক্রমাগত খারাপ অবস্থায় পড়ে বাজার। নিচের সার্কিট ব্রেকার সীমা মাত্র ২ শতাংশ হওয়ায় প্রতিদিনই সার্কিট ব্রেকারের নিম্নসীমায় কেনাবেচা হওয়া শেয়ার সংখ্যা বাড়ছিল।
নতুন ওই নিয়মের ফলে নির্দিষ্ট দিনে কোনো শেয়ারের দর ১০ শতাংশ বাড়তে পারলেও ২ শতাংশের বেশি কমার সুযোগ ছিল না। এ কারণে গত কয়েক সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ার ক্রেতাশূন্য অবস্থা তৈরি হয়েছিল। এ কারণে লেনদেন ৪০০ কোটি টাকার নিচে নেমে আসে, যা ছিল এক বছরের সর্বনিম্ন। এমন পরিস্থিতিতে বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে অবিলম্বে ২ শতাংশ সার্কিট ব্রেকারের নিয়মটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়। এরপরই এ নিয়মে পরিবর্তন আনল এসইসি।
