লক্কড়ঝক্কড় লঞ্চে রঙ লাগিয়ে নতুন রূপ

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২২, ০১:৪৭ এএম

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার বেশিরভাগ মানুষের ঈদে বাড়ির যাওয়ার প্রধান বাহন লঞ্চ। সারা বছর যাতায়াতের পাশাপাশি অসংখ্য লঞ্চ ঈদে সদরঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন নৌপথে চলাচল করে। করোনা পরিস্থিতিতে গত দুই বছর ঈদযাত্রা স্বাভাবিক ছিল না। যে কারণে ব্যবসায়ীদের বড় রকমের লোকসানে পড়তে হয়। এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন লঞ্চমালিকরা। পুরনো লক্কড়ঝক্কড় লঞ্চে রঙ লাগিয়ে নতুন রূপ দেওয়ার জন্য কেরানীগঞ্জের ডকইয়ার্ডগুলোতে ভিড় করছেন লঞ্চ মালিকরা। শেষ মুহূর্তের ঝালাইকাজ ও রঙের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে বহু লঞ্চে। যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে ডকইয়ার্ডের শ্রমিকরা। যদিও অভিযোগ রয়েছে, ফিটনেসবিহীন অনেক লঞ্চও রঙ লাগিয়ে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে ডকইয়ার্ডগুলোতে। তবে লঞ্চমালিকদের দাবি, নৌপথে ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চ তারা চালাতে চান না।

সরেজমিনে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের ডকইয়ার্ডগুলোতে দেখা যায়, ঈদের আগে নদীতে লঞ্চ ভাসানোর জন্য শেষ মুহূর্তের কাজ করছেন শ্রমিকরা। লঞ্চগুলো মেরামতের পাশাপাশি চলছে ফিটিংয়ের কাজ। অনেক লক্কড়ঝক্কড় লঞ্চও সেখানে মেরামত করতে দেখা যায়। পরিবর্তন করা হচ্ছে পুরনো জেনারেটর। বিভিন্ন পুরনো যন্ত্রও পাল্টে লাগানো হচ্ছে নতুন করে। লাগানো হচ্ছে নতুন বাতিও। অনেক লঞ্চের পাখাও পরিবর্তন করতে দেখা যায়। আবার কোনো কোনো লঞ্চের কাঠামোর বাঁকা ও ফাটা অংশ ঠিক করা হচ্ছে। মূল কাঠামোর প্লেটও পরিবর্তন করতে এসেছে অনেক লঞ্চ।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য বলছে, আসছে ঈদে ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করবেন। নৌপথে গতবারের চেয়ে এবার অনেক বেশি লোক যাতায়াত করবেন। এবারের ঈদযাত্রার সময়ে কালবৈশাখীর শঙ্কা থাকায় নৌপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই ফিটনেসবিহীন নৌযান বন্ধের পাশাপাশি ফিটনেসধারী নৌযানে যাতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করতে না পারে সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

ঈদের আগে মেরামতকাজের চাপ বেশি বলে জানান কেরানীগঞ্জের একটি ডকইয়ার্ডের কারিগর দিন ইসলাম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন কাজ ভালোই আসছে। তবে পাঁচ বছর আগে এখানকার ডকইয়ার্ডগুলো আরও বেশি জমজমাট ছিল। এখন সেই জমজমাট কাজ নেই। গত দুই বছর তো আর তেমন কাজ করা হয়নি। সে হিসেবে ভালোই কাজ হচ্ছে। এখানে ঝালাই করে রং লাগিয়ে সংস্কার করা হচ্ছে লঞ্চগুলো। যেসব লঞ্চের প্লেটে মরিচা ধরে পাতলা হয়ে গেছে, সেগুলো ঝালাই করা হচ্ছে।’

মেরামতের জন্য কেরানীগঞ্জের লাকি ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসে নিয়ে আসা হয়েছে ঢাকা-গৌরনদী রুটের এম ভি মানসী-৭ লঞ্চ। এই নৌযানটির শ্রমিক মো. মাইনুদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদের আগে লঞ্চের যে সমস্যা আছে সেগুলো ঠিকঠাক করার জন্য এখানে আনা হয়েছে। আশা করছি ২২ রমজানের আগে সব ঠিক হয়ে যাবে। কারণ সমস্যা নিয়ে তো আর নদীতে লঞ্চ চলাচল করা যায় না। সেজন্য ঈদের আগে লঞ্চটি আনা হয়েছে এই ডকইয়ার্ডে।’

প্রতি বছর রোজার সময় বহু লঞ্চ মেরামতের জন্য আনা হয় বলে জানান দোলেশ্বর হাজারীবাগ ডকইয়ার্ডের মালিক সায়মন চৌধুরী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতি বছর রমজানের আগেই সার্ভিস জাহাজগুলো মেরামত করা হয়। তাই এ সময় কাজে ব্যস্ত সময় পার হয়। তবে এবার জিনিসপত্রের দাম অনেক বাড়তি। সেজন্য বড় কাজগুলো এখন কেউ করাচ্ছে না। রঙের কাজসহ হালকা কাজ হচ্ছে ডকইয়ার্ডগুলোতে। ২৫ রমজানের আগেই সব কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে লঞ্চমালিক সমিতির সভাপতি মাহাবুব উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নৌপথে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ আমরা চালাতে চাই না। আর লঞ্চের কোনো সমস্যা থাকলে তা ডকইয়ার্ডে নিয়ে তো ঠিক করতে হবেই। তবে কোনো লঞ্চে সমস্যা থাকলে সেটি আমরা চলাচল করতে দেব না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত