চলে গেলেন শাস্ত্রীয় সংগীতের দিকপাল প-িত শিবকুমার শর্মা (৮৪)। ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতপিপাসুদের সন্তুরের ঝঙ্কারে জাদু করে গতকাল মঙ্গলবার মুম্বাইয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান এ কিংবদন্তি। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এবং তার কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে ভারতের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। তিনি ২০১৪ সালে ঢাকায় বেঙ্গল ক্ল্যাসিকাল মিউজিক ফেস্টিভ্যালে তার মোহময় সন্তুর বাজিয়ে ভক্ত-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিলেন।
প-িত শিবকুমার শর্মার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘প-িত শিবকুমার শর্মাজির প্রয়াণে আমাদের সাংস্কৃতিক জগৎ আরও দরিদ্র হলো। তিনি সন্তুরকে বিশ্বস্তরে জনপ্রিয় করেছিলেন। তার সংগীত আগামী প্রজন্মকে মুগ্ধ করতে থাকবে।’
শিবকুমারের মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই শোক প্রকাশ করছেন, জানাচ্ছেন শ্রদ্ধা। তার মৃত্যুকে অনেকে ‘একটি যুগের সমাপ্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে বলিউডের মূল ধারার সিনেমায় কালজয়ী কিছু সুর সৃষ্টি করেছেন কাশ্মীরের সন্তান শিবকুমার, যার মধ্যে ‘সিলসিলা’ অন্যতম। ১৯৬০ সালে প্রথম একক রেকর্ড তৈরি করেছিলেন প-িত শিবকুমার শর্মা। পরে হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়া এবং গিটারিস্ট ব্রিজভূষণ কাবরার সঙ্গে অসাধারণ সব সংগীত রচনার কাজ চালিয়ে যান।
শান্তরামের ‘ঝনক ঝনক বাজে পায়ে’র ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দিয়ে শুরু করেন বলিউডের জন্য সংগীত রচনা। এছাড়া যশ চোপড়ার লামহে, চাঁদনি এবং সিলসিলাসহ অনেক চলচ্চিত্রের জন্য সুর করেছেন শিবকুমার। ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয় তার অ্যালবাম ‘কল অব দ্য ভ্যালি’। চৌরাশিয়ার বাঁশি আর ব্রিজভূষণের গিটারের সঙ্গে সন্তুরের ওই যুগলবন্দি ভারতে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া রেকর্ডগুলোর একটি।
১৯৩৮ সালের ১৩ জানুয়ারি কাশ্মীরের জম্মুতে এক সম্ভ্রান্ত সংগীতজ্ঞ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শিবকুমার শর্মা। তার বাবা উমা দত্তশর্মা ছিলেন প্রথিতযশা শিল্পী। পাঁচ বছর বয়সেই শিবকুমার তার বাবার কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নিতে শুরু করেন। তার বাবা সন্তুর নিয়ে অনেক গবেষণা করেছিলেন। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ছেলেকে তিনি শাস্ত্রীয় সংগীতের সন্তুরবাদক হিসেবে গড়ে তুলবেন।
বাবার কাছে হাতেখড়ির পর শিবকুমার সন্তুর নিয়ে নিজেও নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। এরপর চলে যান মুম্বাইয়ে। সেখান থেকেই তিনি পরে সন্তুরের বাজনা ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বময়। বাংলাদেশে উচ্চাঙ্গ সংগীতের উৎসবেও তিনি অংশ নিতে এসেছেন কয়েকবার।
সংগীত জীবনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন প-িত শিবকুমার। ভারত সরকার ১৯৯১ সালে তাকে পদ্মশ্রী এবং ২০০১ সালে পদ্মবিভূষণ খেতাবে ভূষিত করে।
