কর্ণফুলীর মাটি সরে ধসের ঝুঁকিতে শাহ আমানত সেতু

আপডেট : ২৩ মে ২০২২, ০১:৫৫ এএম

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর একপাশে চর থাকলেও অন্য পাশের মাটি ক্রমশ সরে যাচ্ছে। উজানের ঢলে নদীর একপাশে বেড়ে গেছে গভীরতা। বিশেষ করে শাহ আমানত সেতুর বিভিন্ন পিলার সংলগ্ন নদী এলাকায় কোথাও চর জাগছে; কোথাও তীব্র স্রোতে গভীরতা বেড়ে সেতুটিই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গতকাল রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘কর্ণফুলী নদীর তলদেশের গভীরতা ও দখল জরিপ-২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ‘কর্ণফুলী নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন।

চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর তলদেশের বাস্তব পরিস্থিতি ও দখল নিয়ে জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপকাজ পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপকও রোড কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ ড. স্বপন কুমার পালিত, কর্ণফুলী বিশেষজ্ঞ বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী ও মেরিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নোমান আহমদ সিদ্দিকী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০০০ সালে কর্ণফুলী নদীর প্রস্থ ৯৩০ দশমিক ৩১ মিটার থাকলেও এখন তা দাঁড়িয়েছে ৪১০ মিটারে। গত ২২ বছরে নদীর প্রায় ৫০০ মিটার সংকুচিত হয়ে গেছে। ম্যানুয়াল ও ফ্যাদোমিটারের সাহায্যে ভাটার সময় নদীর তলদেশের গভীরতা পরিমাপ করে দেখা গেছে, নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ চর পাথরঘাটা সেতুঘাট এলাকায় ২৫ ফুট, মাঝ নদী বরাবর ৩৮ ফুট ও উত্তর পাশে ফিরিঙ্গি বাজার সেতুঘাট এলাকায় ২৪ ফুট। নিয়মিত ড্রেজিং করায় এই এলাকায় নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ রয়েছে। কিন্তু এর ঠিক ৫০০ মিটার উজানে চাক্তাই খালের মোহনায় উত্তর পাশে কর্ণফুলীর প্রকৃত সীমানা থেকে ৩০০ ফুট নদীর অংশে গভীরতা মাত্র ২ ফুট, মাঝ নদী বরাবর ১৩ দশমিক ৬ ও দক্ষিণ পাশে তীরের কাছাকাছি গভীরতা ৪৮ ফুট।

নদীর আরও ৫০০ ফুট উজানে উত্তর পাশে রাজাখালী খালের মোহনায় মাঝ নদীতে গভীরতা মাত্র ৪ ফুট। কিন্তু শাহ আমানত সেতুর তিন নম্বর পিলার বরাবর নদীর গভীরতা ৬০ দশমিক ৯ ফুট। এমনকি কর্ণফুলী সেতুর উত্তর পাশে ১ ও ২ নম্বর পিলারের মাঝখানে গভীরতা ফিরিঙ্গি বাজার এলাকার পরিমাপ অনুযায়ী ২৫ ফুট থাকার কথা থাকলেও সেখানে বর্তমান রয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৭ ফুট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্ণফুলী সেতুর ২ ও ৩ নম্বর পিলারের মাঝখানে গভীরতা থাকার কথা ফিরিঙ্গি বাজার এলাকার গভীরতা অনুযায়ী ৩৮ ফুট। কিন্তু বাস্তবে এই দুই পিলারের মাঝখানে জেগেছে চর। আবার সেতুর ৩ ও ৪ নম্বর পিলার এলাকায় স্বাভাবিক গভীরতা ৩৮ ফুট থাকার কথা থাকলেও তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমকি ৭ ফুট। সেতুর দক্ষিণ তীরে ৪ ও ৫ নম্বর পিলার এলাকায় নদীর স্বাভাবিক গভীরতা ২৮ ফুট থাকার কথা থাকলেও এখন তা দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ৬ ফুট।

সংবাদ সম্মেলনে কর্ণফুলী নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীর দুইপাশে ২০ বছর ধরে যেসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে, তা উচ্ছেদ করা জরুরি। নদীকে বাঁচানোর জন্যই জরুরি ভিত্তিতে দূষণরোধ ও ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা প্রয়োজন।’

অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীকে বাঁচাতে হবে। সময় থাকতে সচেতন না হলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য আরও খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে। নদীতে যে হারে পলি জমছে এবং শহরের আবর্জনা পড়ছে, তা ঠেকানো না গেলে এক সময় কর্ণফুলী মরা নদীতে পরিণত হবে। জোয়ারের সময় কর্ণফুলীর অবস্থা তেমন টের পাওয়া যায় না। কিন্তু ভাটার সময় নদীর বাস্তব অবস্থা স্পষ্ট হয়। সব জেনেশুনেও সংশ্লিষ্টরা  নীরব রয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেরিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নোমান সিদ্দিকী, অধ্যাপক জনার্দন বণিক, অ্যাডভোকেট সেলিম চৌধুরী, অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দাশ, এস এম পেয়ার আলী, জাফর আহমদ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত