খুলনায় পুলিশ-ছাত্রলীগের সঙ্গে বিএনপির ব্যাপক সংঘর্ষ

আপডেট : ২৬ মে ২০২২, ০৭:৫৩ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে খুলনায়ও। বৃহস্পতিবার খুলনায় বিএনপি আয়োজিত সমাবেশ পণ্ড হয়েছে সংঘর্ষে। সেখানে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব শফিকুল আলম তুহিনসহ ৫০ নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে বলে দাবি করেছে দলটির নেতারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছেন। থেমে থেমে ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও টিয়ার সেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে।

জানা গেছে, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে খুলনা কেডি ঘোষ রোডের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় এ সমাবেশ আয়োজন করে দলটি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সমাবেশে যোগ দিতে ছাত্রদলের জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে পিকচার প্যালেস মোড় হয়ে দলীয় কার্যালয়ের দিকে আসতে থাকেন। একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় মিছিল বের করেন মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দিকে আসতে থাকেন তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পিকচার প্যালেস মোড়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সেখান থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ১০০ মিটার দূরে বিএনপির সমাবেশে হামলা করে। ভাঙচুর করা হয় সমাবেশের চেয়ার ও প্যান্ডেল। আতঙ্কিত হয়ে বিএনপির একটি অংশের নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ অর্ধশতাধিক টিয়ার শেল ছোড়ে। তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের দিকে চলে যায়। এরপর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার হয়।

বিএনপির মহানগর আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শুরু করি। সমাবেশে আসা মিছিলের ওপর প্রথম ছাত্রলীগ হামলা করে। পরে তাদের সঙ্গে পুলিশ একত্রিত হয়ে সমাবেশ স্থলে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী আহত ও আটক হয়েছেন।

খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন বলেন, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ পুলিশের ওপর আক্রমণ করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ৫০ রাউন্ড টিয়ার শেল, ১৫০ রাউন্ড রারার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের ১৪ সদস্য আহত হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত