ব্যবসায়ীরা কালো টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে না। এতে সৎ ব্যবসায়ীরা কর দিতে নিরুৎসাহিত হবেন। পাচার হওয়া টাকা বিনা প্রশ্নে দেশে আনার সুযোগ দেওয়াকে ব্যবসায়ীরা সমর্থন করে না বলে জানিয়েছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। গতকাল শনিবার এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের সভাপতি।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, পাচার হওয়া টাকা বিনা প্রশ্নে দেশে আনার সুযোগ দিলে সবাই এতে উৎসাহী হবে। সৎ ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত পরিমাণের কর দেবেন। অথচ বিদেশ থেকে ফেরত আনলে ১৮ শতাংশ ডিসকাউন্ট পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে ভালো ব্যবসায়ীরা রপ্তানিতে নিরুৎসাহিত হবেন। এখন ডলারের সংকট, তাই সরকার হয়তো ডলারের প্রবাহ বাড়াতে এ সুযোগ দিয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা এটা সমর্থন করে না। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি রাখা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে সরকারকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নিতে হবে। এর মধ্যে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে নিতে হবে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। ব্যাংক ঋণের ওপর অধিক মাত্রায় নির্ভরতা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করতে পারে জানিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, ঘাটতি মেটাতে স্থানীয় ব্যাংকব্যবস্থার পরিবর্তে যথাসম্ভব সুলভ সুদে বৈদেশিক উৎস হতে অর্থায়নের প্রচেষ্টা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। কেননা ব্যাংকঋণের ওপর অধিক মাত্রায় নির্ভরতা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, রাজস্ব নীতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। যাতে আস্থার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারেন। মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির মধ্যে সমন্বয় রাখা জরুরি। জীবনযাত্রার ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যক্তি শ্রেণির আয়করের সীমা বাড়ানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইর পরিচালনা পর্ষদ সদস্য, বিভিন্ন চেম্বার সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
করোনার বিধিনিষেধ সরকার পুরোপুরি তুলে নেয়নি। তাই করোনার টেস্ট কিট, পিপিই, প্লাস্টিক ফেসশিল্ড, মাস্কজাতীয় পণ্য উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখা জরুরি। স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের টার্নওভার করহার কমানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, এসব উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে সবধরনের প্রত্যক্ষ কর তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সম্পূর্ণ মওকুফ এবং পরোক্ষ কর ৫০ শতাংশ রেয়াতি হওয়া জরুরি। এ ছাড়া পাইকারি ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসার সব ক্ষেত্রে ভ্যাট শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ করা, ল্যাপটপ আমদানিতে ১৫ শতাংশ মূসক প্রত্যাহার, সোলার প্যানেল আমদানিতে শুল্ক না বসানো ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে উৎসে কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই।
