দেশে ভাসমান চিকিৎসা কেন্দ্র করার মতো কোনো উপকরণ নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, ‘যেসব দেশে সবসময় বন্যাকবলিত হয়, সেখানে নিজস্ব কোনো হেলিকপ্টার, পানিতে চলার অ্যাম্বুলেন্সসহ নানা ধরনের ব্যবস্থা থাকে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সে ধরনের পানিতে চলার যান কিংবা হেলিকপ্টার নেই। আমরা সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরব।’
গতকাল রবিবার রাজধানীর হোটেল র্যাডিসনে আয়োজিত ‘মাটিবাহিত কৃমি সংক্রামক ব্যাধি সামিট ২০২২’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট-সুনামগঞ্জসহ দেশের ১১ জেলায় বানভাসিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ২০০ মেডিকেল টিম কাজ করছে। তবে ভাসমান চিকিৎসা কেন্দ্র করার মতো আমাদের কোনো উপকরণ নেই। সেখানে হাসপাতালে প্রায় দুই থেকে তিন ফুট পানি উঠে গেছে। বন্যার্তদের চিকিৎসাসেবায় ঢাকায় আমাদের কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় কন্ট্রোল রুম রয়েছে। আমরা ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে খবর নিচ্ছি। সিলেট অঞ্চলের সব পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।’
জাহিদ মালেক বলেন, ‘পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পাঠানো হয়েছে। সবার জন্য খাবার পাঠানো তো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, আমরা সাময়িকভাবে কিছু খাবার পাঠিয়েছি। সাপের কামড়ের চিকিৎসায় অ্যান্টিভেনমও পাঠানো হয়েছে। আমাদের চিকিৎসা চালু আছে। সেটা কোথাও বন্ধ নেই। আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে) সেবা যেন ব্যাহত না হয় সেজন্য সেখানে জেনারেটর ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
করোনার ঊর্ধ্বগতি নিয়ে কোনো উদ্যোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মানুষ মাস্ক পরা ভুলে গেছে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সচেতন হতে হবে। আমাদের সবসময় মাস্ক পরতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে সমাগম কমাতে হবে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কিছুদিন ধরে করোনা কিছুমাত্রায় বেড়েছে। আগে যেখানে ২০-৩০ জন আক্রান্ত হতো, সেখানে এখন সাড়ে চারশো পৌঁছে গেছে। এটি ওমিক্রনের সাব-ভ্যারিয়েন্ট। এটি মারাত্মক কিছু নয়, তবে এটি দ্রুত সংক্রমণ করে। এতে মৃত্যু না হলেও দ্রুত সংক্রমণ ঘটে। বুস্টার ডোজ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
