কিংসকে রুখতে পারেনি রাসেল

আপডেট : ২৭ জুন ২০২২, ০৬:৪২ এএম

২৮ মিনিটে উজবেক ডিফেন্ডার আইজার আখমেদভের স্পটকিকে লিড শেখ রাসেলের। আগের ম্যাচে শেখ জামালকে উড়িয়ে দেওয়া দলটি আরেকটি লড়াকু ম্যাচের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে বসুন্ধরা কিংস তেমন কিছু হতে দেয়নি। ব্রাজিলিয়ান মিগেল ফিগেইরার ট্রেডমার্ক গোলে প্রথমার্ধেই সমতায় ফেরে শীর্ষের দলটি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে খালিদ সাফিই ও রবসন রবিনহো আরও দু’গোল করেন। ইনজুরি টাইমে মান্নাফ রাব্বী একটি শোধ করলেও হার এড়াতে পারেনি রাসেল।

নিজেদের আঙিনায় ৩-২ গোলের জয়ে ১৭ ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে হ্যাটট্রিক লিগ শিরোপার দিকে আরও এগিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আবাহনীর সঙ্গে ব্যবধান আবার ৯ পয়েন্ট। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শেখ রাসেলকে থাকতে হচ্ছে আটেই।

প্রথম পর্বে ১-০ গোলের জয়ের অনুপ্রেরণা নিয়ে মাঠে নেমেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। শুরু থেকেই তারা খেলেছে আক্রমণাত্মক ফুটবল। ২০ মিনিটে ভালো সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। বিপলু আহমেদের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সে ঢুকে অবশ্য ঠিকঠাক শটটি নিতে পারেননি রবিনহো। তার আগেই বল ক্লিয়ার করেন রাসেলের বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার নাসিরউদ্দিন চৌধুরী। দু মিনিট পর আবার সুযোগ নষ্ট হয় কিংসের। মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে বাঁ-দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে রবিনহো ও মিগেলকে পাস না দিয়ে নিজেই গোলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন নুহা মারং। ২৮ মিনিটে স্রোতের বিপরীতে এগিয়ে যায় শেখ রাসেল। বক্সের ঠিক ভেতরে বিশ্বনাথ ঘোষ রিচার্ড গার্ডজেকে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় তারা। আখমেদভের নেওয়া শটে আসা শেখ রাসেলের আনন্দ অবশ্য ১০ মিনিটের বেশি টেকেনি। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে অসাধারণ বিল্ডআপে সমতায় ফেরে কিংস। নুহা মারংয়ের থ্রু ধরে রবিনহো বাঁ-দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে আড়াআড়ি পাস দেন মিগেলের কাছে। এই মিডফিল্ডারের চলন্ত বলে বাঁ-পায়ের প্লেসিং জায়গা করে নেয় জালে। ৪৩ মিনিটে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন রাসেলের মোহাম্মদ জুয়েল। ইসমাইল আকিন্দের কাটব্যাক হাত ছোঁয়া দূরত্ব থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বাইরে পাঠান এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

বিরতির পর কিংস আক্রমণের ধার বাড়ায়। ৬৫ মিনিটে ইরানি ডিফেন্ডার খালিদ সাফিই এগিয়ে নেন কিংসকে। মিগেলের ফ্রি-কিকে প্রথমে হেড করেছিলেন নুহা মারং। রাসেল কিপার আশরাফুল ইসলাম রানা তা ফিরিয়ে দিলে আলতো টোকায় গোল করেন সাফিই। ৫১ মিনিটে সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন কিংসের মিডফিল্ডার বিপলু আহমেদ। নুহা মারংয়ের থ্রু পাস ধরতে রাসেলের তিন ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে পড়েন বিপলু, তার সামনে শুধুই ছিলেন গোলকিপার রানা। তবে পোস্ট ছেড়ে খানিকটা এগিয়ে এসে বিপলুর শট রুখে দেন রানা। ৬০ মিনিটে বিপলু ও রবিনহো জোড়া সুযোগ নষ্ট করার পর ৮৫ মিনিটে রবিনহো লিগে নিজের ১৩তম গোলের দেখা পান মিগেলের আড়াআড়ি পাস ঠান্ডা মাথায় প্লেসিং শটে জালে জড়িয়ে। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে রবিনহোর থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শট নেন মিগেলের বদলি এলিটা। তবে তার শট দূরের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটেই ডিফেন্সের দুর্বলতায় গোল হজম করে কিংস। এক ডিফেন্ডারকে বডি ডজে পরাস্ত করে দীপক রায় বাঁ-দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আড়াআড়ি বল বাড়ান। গোলমুখ থেকে আলতো টোকায় ৩-২ করেন মান্নাফ রাব্বী।

মোহামেডান, চট্টগ্রাম আবাহনী, সাইফ স্পোর্টিং, আবাহনী ও শেখ জামালের সঙ্গে খেলা বাকি বসুন্ধরা কিংসের। এই ম্যাচগুলো থেকে ১০ পয়েন্ট পেলেই চ্যাম্পিয়ন কিংস। এক ম্যাচ কম খেলে ৩৫ পাওয়া আবাহনী বাকি ৬ ম্যাচ জিতলে পয়েন্ট হবে ৫৩। এখন ৪৪-এ থাকা কিংস ১০ পয়েন্ট পেলে ছাড়িয়ে যাবে আবাহনীকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত