ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা কমিউনিটি ক্লিনিক নিলামে!

আপডেট : ২৯ জুন ২০২২, ০১:০৭ এএম

জিও ব্যাগ ফেলেও তিস্তার ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। নির্ঘুম রাত কাটছে তিস্তা পাড়ের মানুষের। গত ১৫ দিনে শুধু কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ৪২টি বাড়ি তিস্তায় বিলীন হয়েছে। এ ছাড়াও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক বিলীন হওয়ার পথে। ক্লিনিকটি নিলামে তোলার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। 

শুধু তিস্তা নদীর ভাঙনে নয়, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমারের করাল গ্রাসে পতিত হচ্ছে আবাদি জমিসহ ঘরবাড়ি। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এসব নদ-নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষজন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ঘণ্টায় ধরলার পানি ৭ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৪ সেন্টিমিটার ও তিস্তার পানি ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। উজানে বৃষ্টিপাতের কারণেই এসব নদ-নদীর পানি কিছুটা বাড়ছে বলে জানা গেছে।

রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সরিষাবাড়ি গ্রামের আজিজ মিয়া বলেন, ‘হামারগুলার দুঃখের শেষ নাই, বানের ধকল শেষ না হতে শুরু হইছে নদী ভাঙ্গন। ঘর বাড়ি নিয়ে কোনডাই রাখমো।’

একই এলাকার আব্দুল হক বলেন, এই ১০-১২ দিনে তিস্তার ভাঙনে ৪৫-৫০টি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। এখানে একটা কমিউনিটি ক্লিনিক আছে সেটাও যেকোনো সময় তিস্তার গর্ভে যেতে পারে।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নূরে তাসনিম বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা নদীর ভাঙন আরও বেড়ে গেছে। গত ১৫ দিনে প্রায় ৪২টি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া একটি প্রাইমারি স্কুল ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে কমিউনিটি ক্লিনিকটা একেবারে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকটি নিলামের প্রক্রিয়া চলছে। যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছে তাদের তালিকা প্রস্তুত করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত