ভারতীয় ডাক্তারের হাতে পাকিস্তানি কিশোরীর নতুন জীবন

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২২, ১২:৩৮ এএম

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের ১৩ বছরের কিশোরী আফশিন গুল। জন্মের ১০ মাস পর এক দুর্ঘটনায় ঘাড় বেঁকে যায়। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে চিকিৎসা করাতে পারেনি তার পরিবার। পরে বিনা খরচে আফশিনের চিকিৎসা করেন ভারতের ডাক্তার রাজাগোপালন কৃষ্ণান। লিখেছেন নাসরিন শওকত

বেশির ভাগ শিশুর শৈশবের বন্ধু হয় সমবয়সী প্রতিবেশী বা স্কুলের সহপাঠী। আবার অনেক সময় শিশুর সব সময়ের সঙ্গী হয় প্রিয় খেলনা বা পোষ্য প্রানী । তবে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের শহর মিথি। সেখানকার ১৩ বছর বয়সী আফশিন গুলের জন্য এই স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব ছিল। সাত ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট আফশিন। সে পড়তে স্কুলে যায়নি কখনোই। এমনকি বন্ধুদের সঙ্গেও খেলতে পারেনি।

শহর মিথি

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ সিন্ধুর থারপারকার জেলার রাজধানী শহর মিথি। এই প্রদেশের সবচেয়ে বড় শহর করাচি। করাচি থেকে সাড়ে ৪০০ কিলোমিটার দূরে এক মরুভূমি অঞ্চলে মিথির অবস্থান। শহরটিতে শতকরা ৮০ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও ২৩ দশমিক ২৩ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের বাস। সাম্প্রদায়িক সহিংসতাপ্রবণ পাকিস্তানে মিথি হলো ধর্মীর সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। কারণ এ অঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম জনগোষ্ঠী খুব শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করে। সেখানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কোনো নজির নেই।

বর্তমানে থারপারকার জেলার উন্নত অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে মিথি। শহরটিতে স্বাস্থ্যসেবার মান তেমন সন্তোষজনক নয়। মিথিতে একটি সরকারি ও বেশ কটি বেসরকারি হাসপাতাল আছে। কিন্তু সেখানকার মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা যেমন ওষুধ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত অন্যান্য সুযোগ সহজলভ্য নয়। মিথিতে রোগীদের স্বাস্থ্য অধিকার চর্চার বিষয়টিও উপেক্ষিত বলা যায়। অ্যাম্বুলেন্স ও অন্য সেবা নিতে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনেক বেশি টাকা দাবি করে থাকে।

একটি দুর্ঘটনা

আফশিনের এমন অস্বাভাবিক জীবনযাপনের মূলে রয়েছে একটি দুর্ঘটনা। আফশিনের তখন ১০ মাস। সে সময় এক দিন বোনের কোলে ছিল আফশিন। হঠাৎ করেই বোনের কোল থেকে পড়ে যায় শিশু আফশিন। এর পরপরই তার বাম পাশের গলা ৯০ ডিগ্রি বেঁকে গিয়ে ঘাড়ের সঙ্গে আটকে যায়। ওই অবস্থায় তার বাবা-মা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। আফশিনের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ডাক্তার তাকে বেশ কিছু ওষুধ ও গলায় একটি বেল্ট পরিয়ে বিদায় দেন। পরে ওই অবস্থাতেই আফশিনকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তার বাবা-মা। কিন্তু এরপর থেকেই দিন দিন আফশিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সে সময় মাংসপেশির পক্ষাঘাতজনিত (সেরিব্রাল পালসি) আরও একটি অস্থুতায় ভুগছিল আফশিন। ছয় বছর বয়সে সে হাঁটতে শেখে। এর দুই বছর পর আট বছর বয়সে সে ভালোভাবে হাঁটতে শুরু করে। তার এসব শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার বয়সের অন্য সব শিশুর থেকে তাকে পিছিয়ে দিয়েছিল।

আফশিনের মা জামিলান বিবি জানান আফশিনের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য তার পরিবারের নেই । অতীতের  কথা স্মরণ করে জামিলান বিবি আরো জানান, ‘সে হাঁটতে পারত না, খেতে পারত না, এমনকি কথাও বলতে পারত না। সে শুধু ঘরের মেঝেতে শুয়ে থাকত। খাওয়া থেকে শুরু করে দিনের প্রতিটি প্রয়োজনে আমরা তাকে সহযোগিতা করতাম।’

করাচির মতো শহরের পাশের মিথিতেই এক যুগ ধরে এমন অবর্ণনীয় যন্ত্রণায় অবরুদ্ধ জীবন কেটেছে ফুলের মতো শিশু আফশিনের। চলতি বছরের মার্চে ভারতীয় চিকিৎসক রাজাগোপালন কৃষ্ণান তার বাঁকা গলায় অস্ত্রোপচার করেন। এরপরই আফশিনের জীবন পাল্টে যায়। কৃষ্ণান দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালের জটিল মেরুদণ্ডীয় শল্যবিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ পরামর্শক। তিনি বিনা মূল্যে আফশিনের এই জটিল অস্ত্রোপচার করেন।

এই অস্ত্রোপচারের চার মাস এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে। এখন আফশিন নিজে একাই হাঁটতে, কথা বলতে ও খেতে পারে। অস্ত্রোপচারের পর তার ঘাড়ের ক্ষতও অনেকটা শুকিয়ে এসেছে। ডাক্তার কৃষ্ণান প্রতি সপ্তাহে স্কাইপের মাধ্যমে আফশিনের ক্ষতের অবস্থা পরীক্ষা করেন। আফশিনের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তার ভাই ইয়াকুব কুম্বার বলেন, ‘সে শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল। এখনো স্কুলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তার তৈরি হয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থার উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন ডাক্তার। আমরা অনেক খুশি। তিনি আমার বোনের জীবন বাঁচিয়েছেন। আমাদের কাছে তিনি একজন ফেরেশতা।’ আফশিন মেরুদণ্ডের আটলান্টো অক্ষির ঘূর্ণন স্থানচ্যুতিজনিত (আটলান্টো-এক্সাইল রোটাটরি ডিজলোকেশন) অসুস্থতায় ভুগছিল। এই স্থানচ্যুতির ফলে গলা বা ঘাড়ের ঘূর্ণন বিকল হয়ে পড়ে। ডাক্তার কৃষ্ণান বলেছেন, ‘আফশিনের এই অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভবত বিশ্বে প্রথম ।’

যেভাবে মনোযোগে এলো

২০১৭ সালে আফশিনের শারীরিক এই অবস্থা বিশ্বজুড়ে সবার মনোযোগ কাড়ে। সে সময় একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম আফশিনের ওপর একটি ফিচার প্রকাশ করেছিল। একই সময়ে পাকিস্তানের প্রখ্যাত অভিনেতা আহসান খান টুইটারে আফশিনের একটি ছবি পোস্ট করে সবার কাছে সহায়তার আহ্বান জানান। এর পরপরই আফশিনের মা জামিলান বিবিকে টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সকালের জনপ্রিয় ওই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করতেন সনম বালোচ। এর পাশাপাশি তার পরিবারকে অস্ত্রোপচারে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকেও একটি অনলাইন অর্থসহায়তা তহবিল গঠন করা হয়েছিল।

২০১৭ সালে নভেম্বর মাস। পাকিস্তানের তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) এমপি নাজ বেলোচ এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছিলেন, সিন্ধু প্রদেশ সরকার আফশিনের চিকিৎসার সব খরচ বহন করবে। এর পরের বছর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আফশিনকে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় বেসরকারি আগা খান বিশ^বিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আফশিনের ভাই কুম্বার এ সম্পর্কে বলেন, ‘সে সময় হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার অস্ত্রোপচার করতে চাইলেও আফশিনের সুস্থ হয়ে ফেরার ক্ষেত্রে ৫০ ভাগ নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন।’ আফশিনের বাবা-মায়ের জন্য মেয়ের এমন অবস্থায় তখন অস্ত্রোপচারের অনুমতি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চিকিৎসকদের কাছে আরও সময় চেয়ে আফশিনকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।

জীবন সংগ্রাম

আফশিনের এক বোনের বিয়ের অনুষ্ঠান থাকার কারণে তার অস্ত্রোপচার করাতে দেরি হয়। কিন্তু তার ভাই কুম্বার জানান, বোনের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে আফশিনের চিকিৎসার বিষয়ে যখন তারা আবার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন তাদের ভীষণভাবে নিরাশ হতে হয়েছিল। কারণ সে সময় ওই কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি ।

ওই সময় আফশিনের চিকিৎসা করাতে এমপি নাজ বেলোচ এগিয়ে আসেন। তিনি তার সাধ্যমতো চেষ্টা করে বিদেশের বেসরকারি উন্নয়ন (এনজিও) সংস্থাগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে গেছেন। বিদেশি সংস্থাগুলো যখন আফশিনের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে আসে এমপি নাজ তখনই এ দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন।

এরই মধ্যে কেটে গেছে এক বছর। ২০১৯ সালে আবার আফশিন খবরের শিরোনামে উঠে আসে। সে সময় আলেকজান্দ্রিয়া থমাস নামের এক ব্রিটিশ সাংবাদিক আফশিনের শারীরিক অবস্থা ও তার পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এই আলেকজান্দ্রিয়াই আফশিনের পরিবারের সঙ্গে দিল্লির ডাক্তার রাজাগোপালন কৃষ্ণানের যোগাযোগ করিয়ে দেন। এরই মধ্যে আরও প্রায় দুবছর কেটে যায়। আফশিনকে ২০২১ সালের নভেম্বরে ভারতে নিয়ে যেতে তার পরিবার চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে ভিসার জন্য আবেদন করেছিল। এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় একটি শিশসেবা সংস্থা ‘দারুল সকুন’ আফশিনের পরিবারকে সহায়তা করে।

সে সময়ের কথা স্মরণ করে কুম্বার বলেন, ‘ওই সময়টা আফশিন ও তার পরিবারের জন্য ভয়ংকর কঠিন ছিল। কারণ সে সময় ডাক্তার কৃষ্ণান জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচারের সময় আফশিনের হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের স্পন্দন থেমেও যেতে পারে।’

এমন জটিলতার সঙ্গেই ছিল অর্থনৈতিক সংকটও। কারণ তখনো আফশিনের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করে উঠতে পারেনি তার পরিবার। এ জন্যই সে সময় আফশিনের চিকিৎসার ব্যয় সংগ্রহের জন্য তাদের অনলাইনের অর্থ সংগ্রহকারীদের ওপরই ভরসা করতে হয়েছিল। কিন্তু এমন নিরাশার সময়েই আফশিনের পরিবারকে দেবদূতের মতো আশার প্রতিশ্রুতি দেন ডাক্তার কৃষ্ণান। দিশেহারা ওই সময়ের কথা জানিয়ে কুম্বার বলেন, ‘সে সময় আরও বেশ কয়েকজন ডাক্তারের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিলেন। কিন্তু তারা ডাক্তার কৃষ্ণানের মতো এতটা সংবেদনশীল ও মানবিক ছিলেন না। ডাক্তার কৃষ্ণানের অক্লান্ত পরিশ্রম ও পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে আফশিনের অস্ত্রোপচার সফল হয়েছিল।’

যেভাবে হলো অস্ত্রোপচার

ভারতে আফশিনের পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি ছিল খুবই জটিল ও উদ্বেগজনক। ডাক্তার কৃষ্ণান ও তার দলকে দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালে আফশিনের গলায় অস্ত্রোপচারের আগে আরও দুটি বড় অস্ত্রোপচার (মেজর অপারেশন) করতে হয়েছিল। সে সময় গলায় যে অস্ত্রোপচারটি করা হয়েছিল সেটিও বড় অস্ত্রোপচারই ছিল।

মূল অস্ত্রোপচারটি ছিল গলায়। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে অস্ত্রোপচারটি করা হয়েছিল। এই জটিল অস্ত্রোপচারটি সম্পর্কে সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে ডাক্তার কৃষ্ণান বলেছিলেন, ছয় ঘণ্টার ওই অস্ত্রোপচারের সময় প্রথমে তিনি ও তার দল আফশিনের মাথার খুলিকে মেরুদণ্ডের রজ্জুর (স্পাইনাল কর্ড) সঙ্গে যুক্ত করে নিয়েছিলেন। এরপর গলাকে সোজা রাখার জন্য তারা ওই খুলিকে একটি লাঠির সঙ্গে স্ক্রু আটকে ঘাড়ের শিরদাঁড়ার (সার্ভিক্যাল স্পাইন) সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারটি ছয় ঘণ্টায় সফলভাবে শেষ হয়। এরপর ডাক্তার কৃষ্ণান রিপোর্টারদের বলেছিলেন, আফশিনকে দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে হলে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

জুলাইয়ে কোরবানি ঈদের আগের দিন আফশিনের ভাই কুম্বার ফেইসবুকে আফশিনের একটি হাসিমুখের ছবি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এখন সে হাসছে ও কথা বলছে।’ তবে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী কিছু জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে আফশিনকে। এ কারণে অন্য শিশুদের থেকে সে একটু ধীরস্থির। আর সেজন্য অনেকেই প্রায়ই তার এ অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভবিষ্যতে আফশিনের পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করে কুম্বার আরও বলেন, ‘কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেও ভালো হয়ে যাবে। আমার বোন এখন বেঁচে আছে ও সুখে আছে এজন্যই আমি সুখী।’

রাজাগোপালন কৃষ্ণান

ডাক্তার রাজাগোপালন কৃষ্ণান ভারতের শীর্ষস্থানীয় অর্থোপেডিকস, স্পাইন সার্জনদের (মেরুদণ্ডী শল্যচিকিৎসক) মধ্যে অন্যতম। তিনি জটিল মেরুদণ্ডীয় শল্যবিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। মেরুদণ্ডের শল্যচিকিৎসক হিসেবে তার ৪৬ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে চার দশকেরও বেশি সময় এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমানে ডাক্তার রাজাগোপালন রাজধানী নয়া দিল্লির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সরিতা বিহারের ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতাল ও নদীয়ার সেক্টর-২৬-এর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  রাজাগোপালন কৃষ্ণান মেরুদণ্ডের শল্যচিকিৎসক হিসেবে এমবিবিএস, এমএস, এমসিএইচ (অনার্স. এল’পোল), পিএইচডি (লন্ডন) ও এফআরসিএস (অর্থোপেডিকস) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ১৯৭৬ সালে দিল্লির মওলানা আজাদ মেডিকেল কলেজ বিশ^বিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস পাস করেন। এর তিন বছর পর ১৯৮০ সালে শাবদারজং হাসপাতালের সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব অর্থোপেডিকস থেকে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাজ্যে জ্যেষ্ঠ ডাক্তার হিসেবে অবস্থানকালে তিনি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। সে সময় রাজাগোপালন

কৃষ্ণান লিভারপুলের নর্মাল রবার্টস মেডাল থেকে এমসিএইচ ও লন্ডনের রয়্যাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল স্কুল অ্যান্ড হ্যামার স্মিথ হাসপাতাল এবং ইউকে ইন্টারকলেজিয়েট স্পেশালিস্ট বোর্ড এক্সামিনেশন অব সার্জিক্যাল রয়্যাল কলেজ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

ডাক্তার রাজাগোপালন ১৯৯৫ সালে অর্থোপেডিকসের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক হিসেবে ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালে যোগ দেন। এরপরই এই হাসপাতালে তিনি মেরুদণ্ডের তৃতীয় মাত্রার (টারটিটারি) সেবা ব্যবস্থা চালু করেন। একই বছর তিনি মিড-চেশায়ার হাসপাতালে অর্থোপেডিকসের পূর্ণকালীন পরামর্শক শল্যচিকিৎসকের দায়িত্ব পান। এই হাসপাতালের প্রথম দশ বছরের প্রতি বছরে তিনি তিন হাজার মেরুদণ্ডের সমস্যায় আত্রান্ত রোগীদের দেখতেন। এছাড়াও বছরে প্রায় ৩৫০ জনের মেরুদণ্ডের শল্যচিকিৎসা করতেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত