টাঙ্গাইলে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার পর এবার গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত বাস থেকে স্বামীকে ফেলে দিয়ে এক নারীকে (২১) দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার ভোরে গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার নারী ও তার স্বামীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তাকওয়া পরিবহনের পাঁচ কর্মীকে গতকাল সন্ধ্যার মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া ওই দম্পতির কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া ১০ হাজার টাকা, দুটি ব্যাগ ও বিভিন্ন মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী দম্পতি পেশায় পোশাককর্মী। তারা জানান, নওগাঁর বাড়ি থেকে বাসে করে গতকাল ভোরে গাজীপুর নগরীর ভোগড়া বাইপাস এলাকায় এসে নামেন। সেখান থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলকারী তাকওয়া পরিবহনের একটি মিনিবাসে করে শ্রীপুরের মাওনার দিকে যাচ্ছিলেন। বাসে আরও কয়েক যাত্রী ছিলেন। বাসটি গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় এসে পৌঁছালে তাকওয়া পরিবহনের আরও তিনজন কর্মী ওঠেন।
বাসটিতে আগে থেকেই দুজন কর্মী ছিলেন। মহাসড়কের হোতাপাড়া পর্যন্ত আসতে আসতে অন্য যাত্রীরা বাস থেকে নেমে যান। হোতাপাড়া পার হওয়ার পর বাস থেকে ওই নারীর স্বামীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর বাসের পাঁচ কর্মী ওই নারীকে ধর্ষণ করে।
পুলিশ জানায়, শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় গিয়ে বাসটি ঘুরে আবার গাজীপুর নগরীর দিকে যাত্রা শুরু করে। একপর্যায়ে গাজীপুর সদরের রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তায় এসে বাসের কর্মীরা ওই নারীকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। এর আগে ওই নারী ও তার স্বামীর কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
নির্যাতনের শিকার নারী গাজীপুরের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার স্বামী গতকাল সকালে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন।
নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. মঞ্জুর মোরশেদ জানান, ভুক্তভোগী নারী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আজ রবিবার তার শারীরিক পরীক্ষা করা হবে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার সানোয়ার হোসেন জানান, নির্যাতনের শিকার নারীর স্বামী মামলা করার পর শ্রীপুর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে তাকওয়া পরিবহনের পাঁচ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলো রাকিব মোল্লা (২৩), সুমন খান (২০), মো. সজিব (২৩), মো. সুমন হাসান (২২), মো. শাহিন মিয়া (১৯)।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে দিনভর লুকোচুরির অভিযোগ উঠেছে শ্রীপুর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। সকাল ১০টার পরপরই গাজীপুরের সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে পারলে শ্রীপুর থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি শ্রীপুর থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্টদের সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে তথ্য জানাতে নির্দেশ দেন। এরপরই সাংবাদিকরা বিস্তারিত তথ্য পান।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর থেকে পুলিশের একাধিক দল একযোগে অভিযান শুরু করে। দিনের মধ্যে পাঁচজন আসামিকেই গ্রেপ্তার এবং মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। যে মিনিবাসটিতে ঘটনা ঘটেছে, সেই বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জগামী ঈগল এক্সপ্রেসের একটি বাসে টাঙ্গাইলে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
