বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিশেষ কোনো দলকে আগেও সমর্থন করেনি, এখনো করে না। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে রাজনৈতিক ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ‘পলিটিকস ম্যাটার্স’ নামে ওয়েবসাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আসছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে পিটার হাস বলেন, ‘সংকট মোকাবিলায় অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের চেয়ে ভালো কোনো সমাধান নেই। রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের সমন্বয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হবে, যদি কেউ বাধা সৃষ্টি করে তাহলে স্বচ্ছ নির্বাচন হবে না।’
‘পলিটিকস ম্যাটার্স’ ওয়েবসাইটটি ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ (এসপিএল) প্রকল্পের একটি অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পটি রাজনৈতিক দলগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক শক্তিশালী করতে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি একটি ব্রত। রাজনীতির ব্রত সমাজ বদলের, মানব সেবার, তা রাজনৈকি কর্মীরা বোঝেন না। রাজনীতি এখন প্রতিষ্ঠা লাভের ও খ্যাতি লাভের সোপান। রাজনৈতিক কর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। রাষ্ট্রের উন্নয়ন হতে হবে মানবিকতার উন্নয়নের মধ্য দিয়ে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই, জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। বর্তমান সংকটের সমাধানের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা জরুরি। তা না হলে সংকট সমাধান সম্ভব নয়।’
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘দেশের সব রাজনৈতিক দল সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর দায়ভার সব দলকেই নিতে হবে।’
রাজনৈতিক জ্ঞান বাড়াতে আটটি কোর্স চালু : ‘পলিটিকস ম্যাটার্স’ নামে ওয়েবসাইটটিতে নেতৃত্বের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, নির্বাচন, দলীয় চর্চা এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের মতো আটটি কোর্স রয়েছে। প্রতিটি কোর্সে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিষয়ের পাশাপাশি ভিডিও অ্যানিমেশন, ইনফোগ্রাফিকস ও কুইজ রয়েছে। ব্যবহারকারীরা কোর্স করার সময় বিভিন্ন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের শেখার অগ্রগতি বুঝতে পারবেন এবং কোর্স শেষ হলে সনদ পাবেন। নিবন্ধনের মাধ্যমে যেকেউ এ কোর্সে অংশ নিতে পারবেন।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি ডানা এল. ওল্ডস বলেন, ‘এই ওয়েবসাইটের কোর্সগুলো ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে এবং দক্ষতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
