ওএমএস কার্ড পেতে মাথাপিছু দিতে হলো হাজার টাকা!

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:১৩ এএম

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের রাজানগর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ওএমএস (খোলাবাজারে বিক্রি) কার্ড পেতে উপকারভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদটির ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য (মেম্বার) হালিমা বেগম ৩০ টাকা কেজি দরের ওই চাল পেতে উপকারভোগীদের কাছ থেকে মাথাপিছু এক হাজার টাকা করে আদায় করেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজানগর ইউনিয়নে ওএমএসের কার্ডের জন্য ৬৪৪টি পরিবারকে তালিকাভুক্ত করা হয়। আর তাদের কার্ড নবায়ন ও ডাটাবেজ তৈরির জন্য টাকা আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন উপকারভোগী। তারা ৩০ টাকা কেজি দরে সপ্তাহে একবার ওএমএসের চাল কিনতে পারবেন। একেকজন উপকারভোগী একবারে কিনতে পারবেন সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল।

ইউনিয়নটির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উপকারভোগী আন্না বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হালিমা মেম্বার আমাদের কাছ থেকে কার্ড দেওয়ার কথা বলে এক হাজার টাকা করে নিয়েছেন।’

৮ নম্বর ওয়ার্ডের উপকারভোগী শিল্পী বেগম বলেন, ‘চাল দেয়ার কথা বলে হালিমা মেম্বার ১ হাজার টাকা নেন। পরে বুধবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে যান কম্পিউটারে এন্ট্রি করার জন্য। সারারাত বসিয়ে রেখে অন্তত ৩০০ জনের তথ্য কম্পিউটারে এন্ট্রি করার কাজ করেন। তারপর ভোরে আমাদের ছাড়েন।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য হালিমা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি কারও কাছ থেকে টাকা নেই নাই। কম্পিউটারে কাজ করতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল। তাই উপকারভোগীরাই আমাদের কিছু টাকা দিয়েছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কারও কাছ থেকে টাকা চেয়ে নেওয়া হয়নি। তারা অনায়াসেই টাকা দিয়েছে।’

ওএমএসের কার্ডের জন্য টাকা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজদীখানের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফুল আলম তানভীর বলেন, ‘এ কর্মসূচি সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ। এখানে কেউ তালিকা করতে গিয়ে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকে, তবে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত