বিনিয়োগের আগে চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনাল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে নেমেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট হুয়া তানের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল গতকাল সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যায়। সেখানে প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেয় এবং বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছে।
বন্দর সূত্র জানায়, বে টার্মিনাল প্রকল্পের চ্যানেল খনন ও ব্রেক ওয়াটার নির্মাণে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহী বিশ্বব্যাংক। তাই প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও বিভিন্ন কারিগরি বিষয় খতিয়ে দেখছে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সোমবার সকালে বন্দর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বে টার্মিনাল প্রকল্পের সার্বিক চিত্র তাদের কাছে তুলে ধরা হয়। এ সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। দুপুর আড়াইটার দিকে তারা বে টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শনে যান। বন্দর সচিব জানান, মঙ্গলবার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে বন্দর কর্মকর্তাদের আরেক দফা বৈঠকের কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থেকে দক্ষিণ কাট্টলী পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী আড়াই হাজার একর জায়গা জুড়ে বে টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এটি হবে বর্তমান বন্দর থেকে প্রায় ৫-৬ গুণ বড়। প্রকল্পের আওতায় মোট তিনটি টার্মিনাল তৈরি করা হবে। এর মধ্যে একটি দেড় হাজার মিটার মাল্টিপারপাস টার্মিনাল। এছাড়া ১ হাজার ২২৫ ও ৮০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে দুটি কন্টেইনার টার্মিনাল করা হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফট ও ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যরে জাহাজ ভিড়ানো যায়। বে টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ১৪ মিটার ড্রাফটের জাহাজ অনায়াসে ভিড়তে পারবে। এছাড়া বর্তমানে বন্দরে জাহাজ প্রবেশ ও বের হওয়ার বিষয়টি জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করতে হয়। বে টার্মিনালে এ ধরনের কোনো সমস্যা থাকবে না।
বন্দর কর্মকর্তারা জানান, পিপিপি প্রকল্পের আওতায় বে টার্মিনাল প্রকল্পের জন্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক হিসেবে কোরিয়ার দুই প্রতিষ্ঠান কুনওয়া ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনসালটিং কোম্পানি লিমিটেড এবং ডিয়েন ইয়াং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নকশা, ড্রয়িং, টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরি ও কাজের যাবতীয় তদারকি করবে প্রতিষ্ঠান দুুটি।
চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বে টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। তাই দীর্ঘদিন ধরেই আমরা এ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছি। বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগের আগ্রহকে প্রকল্পের জন্য একটি ইতিবাচক বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এতে প্রকল্পের কাজে গতিশীলতা আসবে বলে আশা করা যায়।
