সাবান, ডিটারজেন্টের দামের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা হবে

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৩৪ এএম

সাবান, ডিটারজেন্ট, টুথপেস্ট জাতীয় পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এসব পণ্যের উৎপাদন ব্যয় যাচাই ও খুচরা মূল্যের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ‘তথ্য যাচাইয়ে’ এসব পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানির কারখানায় আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তদারকি চালাবে সংস্থাটি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এসব পণ্য উৎপাদনকারী ইউনিলিভার, স্কয়ার, এসিআই, কল্লোল গ্রুপসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান এসব কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য বেড়ে যাওয়া, টাকার বিপরীতে ডলার শক্তিশালী হয়ে ওঠা এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সাবান, টুথপেস্ট, ডিটারজেন্টের দাম কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন উৎপাদনকারী কোম্পানির প্রতিনিধিরা।

ইউনিলিভারের প্রতিনিধি জাহিদ মালিথার দাবি, গত দুই বছরে পণ্যের দাম হয়তো ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে। এসব পণ্যের ৮০ ভাগ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। যার প্রভাব পড়েছে। যেমন ওয়াশিং পাউডারের দাম দুই বছরে ৫০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু এর সার্বিক খরচ বেড়েছে ৯৬ শতাংশ। প্রধান কাঁচামাল সালফিউরিক এসিডের দাম ৮৩ থেকে বেড়ে ১৯০ টাকা হয়েছে। লাইভবয়, স্যাভলন, ডেটল, ফা’র মতো পরিচিত ব্র্যান্ডের মোড়কের রঙে নকল এই সাবানগুলো বিক্রি হচ্ছে কম দামে। সাবানের দাম বেশ বেড়ে যাওয়ায় এখন এই নকল পণ্যও কিনছেন নিম্নআয়ের মানুষ। এভাবে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি আমাদের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করতে বাধ্য করেছে। আমরা ক্রেতা ধরে রাখার জন্য মুনাফা করার পরিমাণ অনেক কমিয়ে এনেছি। পাশাপাশি বাজারজাত করতে যে একটা খরচ সেখানেও কাটছাঁট করেছি। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম কমে গেলে আমরা নিশ্চয় দাম আবার কমিয়ে আনব। সবার বক্তব্য শোনার পর বৈঠকে ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, সাধারণ ভোক্তারা মনে করছেন- আপনারা অযৌক্তিকভাবে ভোক্তার পকেট কাটছেন। কিন্তু আলোচনায় যেটা দেখা গেল আপনাদের পক্ষ থেকে শক্ত যুক্তি আছে। তবে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হওয়া দরকার।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কোম্পানিগুলোর কারখানায় তদারকি চালানোর প্রস্তাব দিয়ে মহাপরিচালক বলেন, আমি সেজন্য আপনাদের সমর্থন চাচ্ছি। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন থেকে প্রতিনিধি, আইসিএমএবি থেকে প্রতিনিধি এবং ভোক্তা অধিকারের একজন কর্মকর্তা আপনাদের কারখানাগুলো পরিদর্শন করবেন। আমরা একটু ক্রস চেক করব। পণ্যের উৎপাদন খরচ ও খুচরা মূল্যের যৌক্তিকতা দেখব।

তিনি আরও বলেন, পরিচিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সাবানসহ টয়লেট্রিজ সামগ্রী নিয়ে ঢাকার গে-ারিয়ায় বসেছে এই ভ্রাম্যমাণ দোকান। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে কম দামে এসব নকল পণ্য কিনছে নিম্নআয়ের মানুষ। এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক গোপনীয়তা রক্ষা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সরকারকে লিখিতভাবে জানাব যে, এই জায়গায় কাজ করার প্রয়োজন আছে।

ক্যাবের প্রতিনিধি ও ভোক্তাকণ্ঠের সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান বলেন, নিত্যব্যবহার্য পণ্যের যখন মূল্যবৃদ্ধি ঘটে তখন ভোক্তাদের নাভিশ্বাস ওঠে। যেই পণ্যের মূল্য বাড়ালে মার্কেটে আপনার শেয়ার কমে যেতে পারে, আপনারা সচেতনভাবে সেখানে কিন্তু মূল্য বাড়াচ্ছেন না।

আর যেখানে একক আধিপত্য আছে, মূল্য বাড়ালে ব্যবসার ক্ষতি হবে না, সেখানে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এটা হচ্ছে মার্কেটে এক ধরনের মনিপুলিট করার মতো অবস্থা। এখানে আমাদের কাজ করতে হবে। এখানে বেশ কিছু অস্পষ্টতা আছে, এগুলো চিহ্নিত করতে হবে। আপনাদের ব্র্যান্ডের নামে অনেক সময় অন্যরা পণ্য তৈরি করে ভোক্তাদের ধরিয়ে দিচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত