দেশের ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আজ শনিবার বৈঠকে বসছে আওয়ামী লীগ। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
একই সভায় গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। সংসদ সদস্য ফজলে রাব্বি মিয়ার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। তিনি গত ১২ জুলাই নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আগামী ১২ অক্টোবর এ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদের মেয়াদ গত ১৭ এপ্রিল শেষ হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল বিদায়ী চেয়ারম্যানদের স্ব-স্ব জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আগামী ১৮ অক্টোবর জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
উপনির্বাচন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে যৌথসভাটি শুরু হবে বিকেল ৪টায়। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর আগে উপনির্বাচন ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী হতে আগ্রহীদের মাঝে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে গাইবান্ধা-৫ আসনে ১০ জন এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রায় ৬০০ জন দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সদ্য বিদায়ী বেশিরভাগ প্রশাসক, দলের জেলা শাখার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং জেলার দায়িত্বে থাকা নেতাদের বেশিরভাগ, যারা জনপ্রতিনিধি নন, তারাই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তারা এরই মধ্যে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের কাছে দফায় দফায় ধরনা দিচ্ছেন। সেখানে ছাত্র রাজনীতিতে নিজের অতীত অবস্থান ছাড়াও বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে কী কী ভূমিকা রেখেছিলেন তা তুলে ধরছেন। যারা দায়িত্বে আছেন তারা নিজেদের সফলতা তুলে ধরছেন। অন্যদিকে নতুনদের অনেকেই সদ্য সাবেকদের ব্যর্থতা নেতাদের সামনে তুলে ধরছেন।
গত মঙ্গলবার ও বুধবার আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যক্তিগত কার্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকজন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী নিজের জীবন বৃত্তান্ত নেতাদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন। এ সময় তারা ছাত্র রাজনীতি, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে কী কী ভূমিকা রেখেছিলেন, এরপর জিয়াউর রহমান, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এবং এক/এগারোর সরকারের সময়ে কে কী ভূমিকা রেখেছিলেন সেগুলো বর্ণনা করেন। মনোনয়ন বোর্ডে বৈঠকে তাদের পক্ষে বলার জন্য অনুরোধ করছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদেরও সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করার আশ্বাস দিতে দেখা গেছে।
গাইবান্ধা-৫ আসনে বুবলি না রিপন: গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে ১০ জন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তাদের মধ্যে আছেন প্রয়াত সংসদ সদস্য ফজলে রাব্বী মিয়ার মেয়ে ও ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা রাব্বী বুবলি, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জিএম সেলিম পারভেজ, লুদা মিলা পারভীন, এস এম শামসুল আরেফিন, মাহবুবুর রহমান, আল মামুন, উম্মে জান্নাতুল ফেরদৌস, সুশীল চন্দ্র সরকার।
আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ নির্বাচনী আসনে ফারজানা রাব্বী বুবলি এবং মাহমুদ হাসান রিপনের মধ্যে যে কেউ মনোনয়ন পেতে পারেন। ফজলে রাব্বী মিয়া এ সংসদীয় আসনের সাতবারের এমপি ছিলেন। তাই তৃণমূলের সর্বত্র তার অনুসারী রয়েছে। বাবার অনুসারীরাও এখন বুবলির পক্ষে আছেন। দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করলেই তার হাতেই নৌকা প্রতীক উঠবে।
অন্যদিকে, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ প্রয়াত ফজলে রাব্বী মিয়া আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হলেও একসময় জাতীয় পার্টি করতেন। তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিলে তার অনুসারীরাও এ দলে আসে। এতে ওখানকার পুরনো আওয়ামী লীগের কর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগও আছে। এত দিন ভোটের রাজনীতির কারণে তার বিকল্প চিন্তা করা হয়নি। কিন্তু তার অবর্তমানে আওয়ামী লীগের আগামীর রাজনীতির কথা বিবেচনা করা হলে রিপনের ওপর ভরসা করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা বলছেন।
বুবলি ও রিপন বাদে গাইবান্ধা-৫ আসনের আলোচিত মনোনয়নপ্রত্যাশী ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম সেলিম পারভেজ। বাকি সাতজনের বেশিরভাগই বুবলি ও রিপনের ‘ডামি’ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
তৃণমূলে গ্রহণযোগ্য, জনপ্রিয় এবং দলের জন্য যাদের অবদান রয়েছে এমন বিবেচনা করেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান।
