সচিব শিক্ষকের সঙ্গে দায় শিক্ষা কর্মকর্তারও

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৪৬ এএম

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার আরও দুজন শিক্ষক ও একজন পিয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় স্থগিত হওয়া চার বিষয়ের নতুন সূচি ঘোষণা করতে গিয়ে গলদঘর্ম দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড। গতকাল দুপুর পৌনে ১টায় চার বিষয়ের নতুন সূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এরপরই আবার পৌনে ৩টার দিকে ঘোষণা করা হয় সংশোধিত সূচি। এ ছাড়া আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য উচ্চতর গণিত ও জীববিজ্ঞান পরীক্ষা সূচি ঠিক থাকলেও আগের প্রশ্নপত্র বাতিল করেছে বোর্ড। অর্থাৎ পরবর্তী ছয়টি বিষয়েই নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

আরও ৩ জন গ্রেপ্তার : এসএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন ভুরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞানের শিক্ষক হামিদুল ইসলাম, বাংলা বিষয়ের শিক্ষক সোহেল চৌধুরী ও পিয়ন সুজন মিয়া। এ নিয়ে এই মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে গ্রেপ্তার করা একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমান, ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল এবং ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক জোবায়ের ইসলামকে গতকাল কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে এজাহারভুক্ত আসামি অফিস সহকারী আবু হানিফ পলাতক।

কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নতুন করে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা সবাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরখাস্ত : এসএসসি পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, ভুরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসসংক্রান্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. আবদুর রহমানকে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর (২) (খ) (আ) অনুসারে অসদাচরণের দায়ে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

সূত্র জানায়, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এসএসসি পরীক্ষার গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, কৃষি ও রসায়ন এ চারটি বিষয়ে প্রশ্ন ফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। যদিও এসব পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি পরবর্তী দুই পরীক্ষারও নতুন প্রশ্নে যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রকান্তরে ছয় বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করে নিল বোর্ড। তবে ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠলেও এখনো এ ব্যাপারে নিশ্চুপ দিনাজপুর বোর্ড।

চলমান এসএসসি পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রহমান। প্রশ্ন বিতরণের সময় ট্রেজারিতে অর্থাৎ থানায় তারও উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু তিনিসহ কমিটির অন্য কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলায়ই ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ জন্য তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

পরবর্তী ছয় বিষয়ে পরীক্ষা নতুন প্রশ্নে : গতকাল দুপুর পৌনে ৩টায় দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২২ সেপ্টেম্বরের গণিত (আবশ্যিক) পরীক্ষা ১০ অক্টোবর, ২৫ সেপ্টেম্বরের কৃষি শিক্ষা (তত্ত্বীয়) ১১ অক্টোবর, ২৬ সেপ্টেম্বরের রসায়ন (তত্ত্বীয়) ১৩ অক্টোবর এবং ২৪ সেপ্টেম্বরের পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও ১০ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গতকাল দুপুর পৌনে ১টায় ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সূচি প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে শিক্ষা বোর্ডের একটি দায়িত্বশীল সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানান, আগামী ১২ অক্টোবর গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে উপনির্বাচন। যা প্রথমবার সূচি ঘোষণার সময় বিবেচনা করা হয়নি। এ জন্যই সূচিতে দ্বিতীয়বার পরিবর্তন আনা হয়।

গতকাল বিকেলেই দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আট জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে স্থগিত হওয়া চার পরীক্ষার পাশাপাশি ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ও ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়)-এর সরবরাহকৃত প্রশ্নপত্র বাতিল করার কথা জানানো হয়। আর আগামী শনিবারের মধ্যে বাতিলকৃত প্রশ্নপত্রগুলো কঠোর নিরাপত্তায় আলাদা করে পৃথক ট্রাংকে সংরক্ষণের জন্য অনুরোধ করা হয়।

গতকাল থেকেই কুড়িগ্রামের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে গিয়ে কাজ শুরু করেছে। তদন্ত কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ফারাজ উদ্দিন তালুকদার। তাকে সহযোগিতা করছেন কমিটির দুই সদস্য বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক হারুন অর রশীদ ম-ল ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক আখতারুজ্জামান। গঠিত তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নতুন করে জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিতের প্রশ্নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আগামী ২৬ তারিখের মধ্যেই ছয় বিষয়ের প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের ট্রেজারিতে চলে আসবে এবং ২৭ তারিখের মধ্যেই কেন্দ্র অনুযায়ী প্রশ্নপত্র আলাদা করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে থেকেই প্রত্যেক বিষয়ের প্রশ্নপত্রের একাধিক পা-ুলিপি করা থাকে। শুধু সেখান থেকে প্রশ্নগুলো নিয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়। ফলে প্রশ্ন প্রণয়নে নতুন করে সময়ের প্রয়োজন হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত