আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় ফিরেছেন নারী ক্রিকেটাররা। দেশে পা রাখার পরও দম ফেলবার ফুরসত নেই। যেতে হবে সিলেটে যেখানে ১ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ। আর এই টুর্নামেন্টের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ায় ২০১৮ সালে ভারতকে ফাইনালে হারিয়ে জিতে নেওয়া শিরোপাটা দেশের মাটি থেকে অন্য কাউকে নিয়ে যেতে দিতে নারাজ নারী ক্রিকেটাররা, বিশেষ করে নারী ফুটবল দলের দক্ষিণ এশিয়া জয় এবং পরবর্তী উচ্ছ্বাস তাদের করছে আরও অনুপ্রাণিত। জ্যোতি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ বাছাই পর্বটা দারুণ কাজে দিয়েছে এশিয়া কাপের প্রস্তুতি হিসেবে।
‘আমি বলব এটি (আমিরাতের বাছাইপর্ব) আমাদের সেরা প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করেছে, কারণ ম্যাচ প্র্যাকটিসের চেয়ে ভালো কোনো প্রস্তুতি হতে পারে না। যেহেতু আমরা এই ফরম্যাটেই খেলে এসেছি, তাই এশিয়া কাপে এটি আমাদের অনেক বেশি সাহায্য করবে। কারণ দল কমবেশি একই। আমরা একসঙ্গে খেলছি। যদি দলীয় সমন্বয় ঠিক থাকে, দল হিসেবে খেলতে পারি, আমার কাছে মনে হয় এশিয়া কাপে ভালো একটা রেজাল্ট হবে।’ সকাল সাড়ে ৮টায় দেশে ফিরে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাংবাদিকদের বলছিলেন জ্যোতি।
চোটের কারণে আবুধাবি থেকে দেশে ফেরা অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জাহানারা আলম এশিয়া কাপের দলে ফিরেছেন। কভিড পজিটিভ হয়ে শুরুর কয়েকটি ম্যাচ খেলতে না পারলেও ফারজানা হক পিংকি বাছাইপর্বের মাঝপথেই দলে ফেরেন। ফাইনালে করেন হাফসেঞ্চুরিও। তাই অনুমিতভাবেই পিংকি আছেন এশিয়া কাপের দলে, তার বদলি হিসেবে আবুধাবি যাওয়া ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণাকেও দলে রেখেছেন নির্বাচকরা। ৮ বছর পর টি-২০ দলে ফিরে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে ৪ উইকেটশিকারি সোহেলি আকতারও জায়গা ধরে রেখেছেন দলে। বাদ পড়েছেন শারমিন আক্তার সুপ্তা ও নবাগত মারুফা আক্তার। ‘হার্দিক পা-িয়া’ হতে চাওয়া মারুফা বাছাই পর্বে কোনো ম্যাচই খেলার সুযোগ পাননি।
নারী ফুটবলারদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয় এবং সংবর্ধনা আর পুরস্কারপ্রাপ্তি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে ক্রিকেটারদের। ‘অনুপ্রেরণা অবশ্যই। তবে আমি এভাবে ভাবিÑ আমরা এশিয়া কাপের শিরোপাধারী। এই দলের অনেকেই ২০১৮-র আসরে খেলেছে। আবার ঘরের মাঠে খেলা বলে নিজেদের এগিয়ে রাখাই উচিত। প্রস্তুতিটাও ভালো হয়েছে। শিরোপা জয়ের মতো বড় অনুপ্রেরণা কিন্তু অন্য কিছু হতে পারে না, তাই আমার মতে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হলো বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করে এসেছি যেটা পুরো দলকে বুস্টআপ করছে।’
এশিয়া কাপের খেলাগুলো হবে সিলেটে। বছরের বেশিরভাগ সময় সিলেটেই চলে নারী দলের অনুশীলন, এবারের জাতীয় লিগও হয়েছে সিলেটে। চেনা মাঠে শিরোপা ধরে রাখতে আত্মপ্রত্যয়ী নারী দলের অধিনায়ক, ‘১১০ পারসেন্ট অবশ্যই। কারণ নিজের মাটিতে খেলা এবং টিম ভালো শেপে আছে। তাই অবশ্যই চাইব ঘরের মাঠে ঘরের শিরোপা যেন থাকে।’
এশিয়া কাপের দল : নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), শামীমা সুলতানা, ফারজানা হক পিঙ্কি, রুমানা আহমেদ, রিতু মনি, লতা মন্ডল, সালমা খাতুন, সোবহানা মোশতারি, নাহিদা আকতার, মুরশিদা খাতুন, জাহানারা আলম, ফাহিমা খাতুন, সানজিদা আকতার মেঘলা, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, সোহেলি আকতার।
