টেসলার প্রধান নির্বাহী এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে টুইটারে একটি ‘শান্তি পরিকল্পনা’ প্রকাশ করেছেন। পোস্টে ইলন মাস্ক প্রস্তাব করেছেন গত সপ্তাহে ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চলকে রুশ ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্ত করতে রাশিয়া গণভোট করেছে, সেখানে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হতে হবে। মাস্ক লিখেছেন, ‘মানুষ যদি চায়, সেখান থেকে রাশিয়া চলে যাবে।’
২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চলকে রুশ ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্ত করে মস্কো। গত সোমবার টুইটার পোস্টে টেসলার প্রধান নির্বাহী ক্রিমিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার অংশ বলে উল্লেখ করেন। তিনি পরামর্শ দেন, ক্রিমিয়ায় যেন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয় এবং ইউক্রেন যেন নিরপেক্ষ আচরণ করে। নিজের পরিকল্পনার ব্যাপারে টুইটার ব্যবহারকারীদের হ্যাঁ অথবা না ভোট দিতে বলেছেন ইলন মাস্ক।
এরপরই অন্য একটি টুইটে আরেকটি জরিপের জন্য প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে মাস্ক লিখেছেন, ‘চলুন দেখা যাক দনবাস ও ক্রিমিয়াতে যারা বসবাস করে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা রাশিয়া নাকি ইউক্রেনের অংশ।’
টুইটারে মাস্ক আরও লিখেছেন, ‘রাশিয়ার জনসংখ্যা ইউক্রেনের চেয়ে তিনগুণ। সুতরাং গোটা যুদ্ধে ইউক্রেন জয় পাবে বলে মনে হচ্ছে না। আপনারা যদি ইউক্রেনের জনগণের কথা ভেবে থাকেন, তবে শান্তির পথে আসুন।’
এদিকে টুইটারে মাস্কের এরকম পোস্ট দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টুইটারে পাল্টা একটি জনমত জরিপ চালাচ্ছেন। তিনি লিখেছেন, ‘কোন ইলন মাস্ককে আপনি বেশি পছন্দ করেন?’ প্রশ্নের নিচে সম্ভাব্য দুটি উত্তর লিখে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বলেছেন তিনি। উত্তর দুটি হলো যিনি ইউক্রেনকে সমর্থন করেন এবং যিনি রাশিয়াকে সমর্থন করেন।
লিথুনিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নাউস দাও এর সমালোচনা করে এক টুইটারে লিখেছেন, ‘প্রিয় ইলন মাস্ক, কেউ যদি আপনার টেসলার চাকা চুরি করার চেষ্টা করে তবে তার মানে এ নয় যে তিনি ওই গাড়ি কিংবা চাকার বৈধ মালিক।’
কিন্তু ইলন মাস্কের এসবে যেন কিছু যায় আসে না। নিজের প্রস্তাবটি জনপ্রিয়তা পেল কি পেল না তা নিয়ে ভাবেন না জানিয়ে মাস্ক বলেন, ‘এসব নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। অহেতুক লাখো মানুষ মারা যাক, তা তিনি চান না।’
