বর্তমান সময়ের আলোচিত চিত্রনায়িকা পূজা চেরী। আজ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে তার সিনেমা ‘হৃদিতা’। এই ছবির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। সমসাময়িক বিষয়ে কথা বলেছেন এই তারকা
হৃদিতা ...
আমি খুশি ‘হৃদিতা’র মতো একটি আবেগময় গল্পে অভিনয় করতে পেরেছি। এটিই আমার অভিনীত প্রথম সরকারি অনুদানের সিনেমা। তাই আমরা আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করেছি। এটি আনিসুল হকের মতো জনপ্রিয় লেখকের গল্প অবলম্বনে নির্মিত। আনিসুল হক স্যারের মুখে শুনেছি, ‘হৃদিতা’ গল্পটি লেখার সময় তিনি কেঁদেছেন। শ্যুটিং শেষে ডাবিং করতে গিয়ে আমিও কেঁদেছিলাম। ছবির ট্রেলার ও গান থেকে দারুণ সাড়া পেয়েছি। আশা করছি আজ ছবিটি দর্শক হলে গিয়ে দেখবেন। কাজটি করার পর আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রেক্ষাগৃহে দর্শককে নাড়া দেবে ছবিটি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সাড়া ফেলবে ‘হৃদিতা’।
অভিজ্ঞতা ...
চলচ্চিত্রের নাম ভূমিকায় অভিনয়ের মধ্যে কিন্তু আলাদা চ্যালেঞ্জ থাকে। ছবিটির সফলতা ব্যর্থতার অনেকটাই সেই শিল্পীকে বহন করতে হয়। আমি সৌভাগ্যবান যে নায়িকা জীবনের স্বল্পদৈর্ঘ্য ক্যারিয়ারে একাধিক ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি। ‘হৃদিতা’ তেমনি একটি ছবি। এখানে আমার চরিত্রের নামই হৃদিতা। এই মেয়েটির জীবনের নানা বাঁক, নানা গল্প, আবেগ, ভালোলাগা-মন্দলাগা তুলে ধরা হয়েছে ছবিটিতে। যে ছবিতে একটি নতুন জুটি কাজ করে সেই জুটির বিশ^াসযোগ্যতা তৈরির বিষয়েও একটি চ্যালেঞ্জ থাকে। এই ছবিতে আমি আর এবিএম সুমন প্রথমবারের মতো একসঙ্গে কাজ করেছি। তিনি দারুণ মনযোগ দিয়ে কাজটি করেছেন। তাই আমার কোনো অসুবিধা হয়নি। সব মিলিয়ে এটি ভালো একটি অভিজ্ঞতা দিয়েছে আমাকে।
সমালোচনা ...
শিল্পীর কাজ নিয়ে আলোচনা হবে সব সময় এটি প্রত্যাশা করা ঠিক না। সমালোচনাও থাকবে, তবে শিল্পী হিসাবে গঠনমূলক সমালোচনা কামনা করি। এই ছবির ট্রেলার প্রকাশের পর কিছু সমালোচনা উঠে আসে। আমি এর আগেও ক্লিয়ার করেছি। আমরা যে ধরনের দৃশ্যগুলো করেছি, তার প্রতিটিই গল্পকে সুন্দরভাবে ফুঁটিয়ে তোলার জন্য। তাই আমরা যদি অতিরিক্ত কোনো কিছু করে থাকি তবে এই গল্প সরকারি অনুদানও পেত না, সেন্সর ছাড়পত্রও পেত না। এটি একটি শৈল্পিক ছবি। ভালোবাসার ছবি। পরিবারকে নিয়ে দেখার মতো ছবি।
বিতর্ক ...
শিল্পী বলে ব্যক্তিজীবন থাকবে না, প্রাইভেসি থাকবে না, আত্মসম্মানবোধ থাকবে না সেটি হতে পারে না। তাই আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে ধরনের বিতর্কই উঠুক না কেন সেটি নিয়ে কথা বলা কিংবা না বলার অধিকার আমার আছে। সিনেমার বিষয়ে সমালোচনা উঠেছে, আমি তৎক্ষণাৎ তার জবাব দিয়েছি। কিন্তু ব্যক্তি জীবন নিয়ে জবাব দেওয়ার প্রয়োজন এখন অন্তত বোধ করছি না। তাছাড়া যে বিতর্কগুলো আমাকে নিয়ে হচ্ছে, তার কোনো প্রমাণ কি কারও কাছে আছে? কেউ সঠিক বিষয়টি না জেনেই অযথা আমাকে এ সবের মধ্যে টানছেন। এবং এটি অনেকটাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি বেশকিছু দিন ধরেই লক্ষ করছি চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির একটি মহল আমাকে যতভাবে পারা যায় দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। তারা চায় না আমি স্বাধীন হয়ে নিজের পছন্দ মতো কাজ করি। তারা আমার সফলতা সহ্য করতে পারছে না।
