গুগলে ইংরেজিতে ‘টাই হারুন’ লিখলেই চলে আসছে- ‘এই চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন দীপু ইমাম!’ ‘অপারেশন সুন্দরবন’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে মাত্র দুই সপ্তাহ হলো। এখনো বড়পর্দায় চলছে ছবিটি। এরইমধ্যে এই ছবির টাই হারুন চরিত্রটি এতোটাই সাড়া ফেলেছে যে গুগলও সেটিকে নোটিশ করেছে। ‘অপারেশন সুন্দরবন’-এ নির্মাতা দীপংকর দীপন দেখিয়েছেন র্যাব বাহিনীর বীরত্বের গল্প। সিরিয়াস এই গল্পটি যে অনুষঙ্গগুলোর কারনে বিনোদনমূলক সিনেমা হয়ে উঠেছে তার মধ্যে এই টাই হারুণ চরিত্রটি অন্যতম।
মজার এই চরিত্রটি সফলতার সঙ্গে পর্দায় তুলে ধরেছেন মঞ্চ নাটক থেকে উঠে আসা অভিনেতা দীপু ইমাম। মঞ্চে কাজ করছেন নব্বইয়ের দশক থেকে। নাটকের দল সুবচন নাট্য সংসদের বিখ্যাত প্রযোজনা ‘মহাজনের নাও’তে যেমন আছেন, তেমনি কাজ করেছেন ‘খান্দানি কিচ্ছা’, ‘তির্থংকর’, ‘ক্ষুধিত পাষান’, ‘রূপবতী’সহ বেশকিছু সাড়াজাগানো নাটকে। মঞ্চ নাটক শুরু করার ১৭-১৮ বছর পরে গোলাম সোহরাব দোদুলের ‘সুলতানা বিবিয়ানা’ নাটকের মাধ্যমে টিভি নাটক শুরু করেন। কিন্তু মনে প্রাণে চাইতেন এমন একটি ছবি করতে যেটি তাকে সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে। দীপংকর দীপনই সেই সুযোগটা দেন। নাটকে অভিনয়ের আরও ১০ বছর পর তিনি সুযোগ পান ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এ। দীপু বলেন, ‘ঢাকা অ্যাটাক দারুণ জনপ্রিয় হয়। এরপর থেকেই মূলত আমার সিনেমার ব্যস্ততা শুরু হয়। মিশন এক্সট্রিম বাদে বাকী ছবিগুলো এখনো মুক্তি পায়নি। অপারেশন সুন্দরবন-এর টাই হারুণ আমাকে স্বপ্ন পূরণের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত এই কাজটির জন্যই সবচেয়ে বেশি সাড়া পাচ্ছি।’

টাই হারুণ হয়ে ওঠা নিয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘এটা মূলত নির্মাতা দীপনের কল্পনা ও নিষ্ঠার ফসল। আমরা চরিত্রটি নিয়ে অসংখ্যবার ফোনে ও সরাসরি আলাপ-আলোচনা, রিহার্সেল করেছি। আমি ৫-৬ মাস এই চরিত্রের মধ্যেই ছিলাম। তখন অন্য কোন কাজও সেভাবে করিনি। এখন আনন্দ লাগছে যে, আমাদের পরিশ্রমের মূল্য দিচ্ছেন দর্শক।’
অপারেশন সুন্দরবনের শ্যুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নাকি ছিল নিদারুণ কষ্টের। দীপু জানালেন, প্রতিদিন মাঝ সাগরে নোঙর ফেলা লঞ্চ থেকে দুই তিন ঘন্টা নৌপথে জার্নি করে শ্যুটিং স্পটে পৌঁছাতেন। এরপর সন্ধ্যায় কাজ শেষ করে আবার ফিরতেন। কোন কোন দিন শ্যুটিংয়ে মগ্ন থাকতে থাকতে ভাটার টান শুরু হত। তখন হাটু পর্যন্ত কাদা ডিঙিয়ে তাদের আসতে হত ট্রলারের কাছে। এরপর আবার লঞ্চের উদ্দেশ্যে যাত্রা। শুধু তিনিই নয়, সিয়াম আহমেদ, নুসরাত ফারিয়া, রোশান থেকে শুরু করে সকল অভিনেতা, কলা-কুশলী এমন কষ্ট করে শ্যুটিং করেছেন।
মুক্তির অপেক্ষায় আছে দীপু ইমাম অভিনীত ‘ব্ল্যাক ওয়ার’, ‘গিরগিটি’, ‘ডি’ ছবিগুলো। শ্যুটিং বাকী দীপংকর দীপনেরই আরেক ছবি ‘ঢাকা ২০৪০’ ছবির। এছাড়া এখন নতুন টিভি চ্যানেল গ্রীন টিভির জন্য ‘বালিঘর’ নামের একটি সিরিয়ালেও কাজ করছেন ভারতীয় নির্মাতার পরিচালনায়। সামনে মনে রাখার মতো আরও কিছু চরিত্রে কাজের স্বপ্ন দেখেন এই অভিনেতা।
